আসানসোল: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নির্বাচনের আগেই উত্তাপ বাড়ছে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার আসানসোলে পৌঁছাল বিজেপির বহুল আলোচিত পরিবর্তন রথযাত্রা। শহরে প্রবেশের সময় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের পক্ষ থেকে এই রথযাত্রাকে ঘিরে জোরদার স্বাগত জানানো হলেও পথে পুলিশের সঙ্গে কর্মীদের বচসা হওয়ায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
এই পরিবর্তন রথযাত্রা শুরু হয় মৈথনের কল্যাণেশ্বরী মন্দির থেকে। মা কালীর মন্দিরে বিশেষ পূজা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার পর রথযাত্রা যাত্রা শুরু করে। এরপর এটি গোরান্ডি, দোমোহানি, জামুড়িয়া, উখড়া এবং অন্ডাল হয়ে রানিগঞ্জ পৌঁছায় এবং সেখান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আসানসোলে প্রবেশ করে।
উষাগ্রামে জমজমাট অভ্যর্থনা
আসানসোলের উষাগ্রাম দুর্গা মন্দির সংলগ্ন এলাকায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এখানে বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল, বিজেপি নেত্রী আশা শর্মা এবং বিজেপি নেতা কৃষ্ণা প্রসাদ-এর নেতৃত্বে রথযাত্রাকে জাঁকজমকপূর্ণভাবে স্বাগত জানানো হয়। ঢাক-ঢোল, স্লোগান ও পতাকার মাধ্যমে সমর্থকেরা রথযাত্রাকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেন।
এরপর সন্ধ্যার দিকে বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত সভার উদ্দেশ্যে পরিবর্তন রথযাত্রা বুধা ময়দান-এর দিকে রওনা দেয়।
পথে পুলিশ আটকাতেই উত্তেজনা
বুধা ময়দানের পথে হঠাৎই পুলিশ রথযাত্রাকে কিছু সময়ের জন্য আটকে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এর জেরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের তর্কাতর্কি শুরু হয় এবং পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তবে পরে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার পর রথযাত্রাকে বুধা ময়দানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
বুধা ময়দানে রাজনৈতিক সভা
বুধা ময়দানে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অর্জুন মুন্ডা, বিজেপি নেতা কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি, বিজেপির পশ্চিম বর্ধমান জেলার সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য এবং কেশব পোদ্দার-সহ একাধিক নেতা।
সভা থেকে নেতারা রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে পরিবর্তন রথযাত্রাকে বাধা দেওয়ার এবং হামলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শুক্রবার পৌঁছাবে কুলটিতে
বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার এই পরিবর্তন রথযাত্রা কুলটি পৌঁছাবে। সেখান থেকে এটি ডিসেরগড় হয়ে পুরুলিয়া জেলার দিকে রওনা দেবে। দলীয় কর্মীদের দাবি, ওই দুই জায়গাতেও রথযাত্রাকে ঘিরে ব্যাপক জনসমর্থন ও জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন এবং সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যেই বিজেপির এই পরিবর্তন রথযাত্রা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।














