পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এখন রাজনৈতিক তাপমাত্রা ঊর্ধ্বমুখী। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ‘পরিবর্তন’ কর্মসূচি নিয়ে সভা ও র্যালি করছে ভারতীয় জনতা পার্টি। সেই ধারাবাহিকতায় আসানসোলের বার্ণপুরে বিজেপি যুব মোর্চার উদ্যোগে আয়োজিত হল একটি বাইক র্যালি, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘পরিবর্তন র্যালি’।
র্যালিটি বর্ণপুরের কোর্ট মোড় থেকে শুরু হয়ে গোরাই রোড ও জিটি রোড পেরিয়ে শেষ হয় দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে। পথে পথে দলীয় পতাকা, স্লোগান এবং সমর্থকদের উপস্থিতিতে রাজনৈতিক আবহ তৈরি হয় পুরো এলাকায়।
দুর্নীতি ও সুশাসন ইস্যুতে সরব
র্যালি প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা ও সমাজসেবী কৃষ্ণ প্রসাদ অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, অত্যাচার ও অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাতেই এই বাইক র্যালির আয়োজন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, “এই পরিবর্তন র্যালি সাধারণ মানুষের ক্ষোভের প্রতিফলন। রাজ্যে সুশাসন ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য।”
অগ্নিমিত্রা পালের কড়া বার্তা
বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের ‘পাপের ঘড়া’ পূর্ণ হয়ে গেছে। তাঁর দাবি, আগামী দেড় মাসের মধ্যেই বাংলায় পদ্মফুল ফুটবে এবং সুশাসনের নতুন অধ্যায় শুরু হবে।
তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
যুব মোর্চার সক্রিয়তা ও রাজনৈতিক বার্তা
র্যালিতে বিপুল সংখ্যক যুব কর্মীর উপস্থিতি নজর কাড়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতেই এই ধরনের কর্মসূচিতে জোর দিচ্ছে বিজেপি।
পুলিশ প্রশাসনের নজরদারিতে র্যালি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে।
বদলাবে কি বাংলার সমীকরণ?
বার্ণপুরের এই পরিবর্তন র্যালি কেবল একটি বাইক মিছিল নয়, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন অনেকেই। বিজেপি যেখানে এটিকে পরিবর্তনের সূচনা বলছে, সেখানে শাসকদল এই কর্মসূচিকে রাজনৈতিক নাটক বলেই কটাক্ষ করছে।
আগামী দিনেই বোঝা যাবে, এই শক্তিপ্রদর্শন বাংলার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।














