দুর্গাপুরে এ বছর হোলি উৎসব শুধুই রঙের আনন্দে সীমাবদ্ধ থাকছে না—তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা। দেশ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ সাংস্কৃতিক সংগঠন ভোজপুরি মঞ্চ দুর্গাপুর আগামী ৪ মার্চ, বুধবার সন্ধ্যায় আয়োজন করছে সর্বধর্ম সমন্বয় হোলি মহা মিলনোৎসব।
অনুষ্ঠান কমিটির সভাপতি গণেশ শর্মা জানান, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য সমাজের বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সম্মান আরও সুদৃঢ় করা।
বিহার ও উত্তর প্রদেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের আগমন
গণেশ শর্মা জানান, হোলি মিলন উৎসবে বিহার ও উত্তর প্রদেশের জনপ্রিয় লোকশিল্পীদের পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমান জেলার খ্যাতনামা ফাগুয়া গায়করাও অংশ নেবেন। তাঁদের কণ্ঠে ফাগুয়ার সুরে মুখরিত হবে অনুষ্ঠানমঞ্চ।
ফাগুয়া পরিবেশনার পর থাকছে চৈতা গানের বিশেষ আসর, যা এই উৎসবকে আরও বর্ণময় করে তুলবে।
সম্মাননা ও রঙিন আপ্যায়ন
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের বিশেষভাবে সংবর্ধনা জানানো হবে। ঠান্ডাই, ঐতিহ্যবাহী নাস্তা এবং গুলাল দিয়ে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানো হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
গত বছরগুলির সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এ বছরও বিপুল জনসমাগমের আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় সাংস্কৃতিক মহল মনে করছে, এই আয়োজন দুর্গাপুরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্যালেন্ডারে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
সম্প্রীতির বার্তা ছড়াবে রঙের উৎসব
গণেশ শর্মা বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও মজবুত করা প্রয়োজন। সেই ভাবনা থেকেই সর্বধর্ম সমন্বয়ের এই উদ্যোগ। এখানে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রিত হয়ে রঙের উৎসব উদযাপন করবেন।
রঙ, সুর ও সম্প্রীতির মিলনমেলা
৪ মার্চের সন্ধ্যায় দুর্গাপুরে দেখা যাবে রঙ, সঙ্গীত ও মিলনের অনন্য সমাবেশ। ফাগুয়া ও চৈতার সুরে, ঠান্ডাইয়ের স্বাদে আর গুলালের রঙে ভরে উঠবে পরিবেশ।
ভোজপুরি মঞ্চের এই প্রয়াস কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়—এটি সামাজিক ঐক্যের রঙিন বার্তা, যা দুর্গাপুরকে এক সুতোয় বেঁধে রাখার অঙ্গীকার বহন করছে।














