পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বেকারভাতা প্রকল্প ‘যুব সাথী’-তে ইতিমধ্যেই ৮১ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। যা প্রাথমিক ৩০ লক্ষ লক্ষ্যমাত্রার প্রায় আড়াই গুণ। বিপুল সংখ্যক আবেদন রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি চালু হওয়া এই প্রকল্পের লক্ষ্য রাজ্যের শিক্ষিত বেকার যুবকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। ঘোষণা অনুযায়ী, ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী যোগ্য প্রার্থীদের আগামী ১ এপ্রিল থেকে মাসিক ১,৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।
📊 প্রতিদিন গড়ে ৮ লক্ষ আবেদন
সরকারি সূত্রের খবর, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮ লক্ষ করে আবেদন জমা পড়েছে। প্রকল্প শুরুর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই আবেদন সংখ্যা ৪৫ লক্ষ ছাড়িয়ে যায়। এই বিপুল সাড়া প্রমাণ করে যে রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাব কতটা গভীর আকার ধারণ করেছে।
💰 বাজেটের সীমাবদ্ধতা, সুবিধা পাবেন ২৭.৮ লক্ষ
যদিও আবেদন সংখ্যা ৮১ লক্ষ ছাড়িয়েছে, বর্তমান বাজেট বরাদ্দ অনুযায়ী প্রায় ২৭.৮ লক্ষ আবেদনকারীকে ভাতা দেওয়া সম্ভব। ফলে সরকার এখন প্রকৃত উপভোক্তা চিহ্নিত করার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ যাচাই ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। আবেদনকারীদের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য নথিপত্র খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। যাতে শুধুমাত্র প্রকৃত যোগ্যরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পান এবং কোনও ধরনের অনিয়ম না ঘটে।
🔎 বিশেষজ্ঞদের মত
অর্থনীতিবিদদের মতে, এত বিপুল সংখ্যক আবেদন রাজ্যের বেকারত্বের বাস্তব পরিস্থিতির স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। একইসঙ্গে এটি দেখায় যে যুবসমাজ সরকারি সহায়তার উপর কতটা নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।
এখন নজর প্রশাসনের উপর—তারা কত দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। সফল হলে ‘যুব সাথী’ লক্ষাধিক যুবকের জীবনে সাময়িক হলেও বড় স্বস্তি এনে দিতে পারে।
বেকারত্বের চাপ ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এই প্রকল্প এখন রাজ্যের সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।














