পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্নিরীক্ষণ (SIR) প্রক্রিয়ার মাঝেই এক চমকপ্রদ গড়মিল সামনে আসায় প্রশাসনিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ-এর পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে সুপার-চেকিং চলাকালীন পর্যবেক্ষকরা একটি গুরুতর তথ্যগত অসংগতি শনাক্ত করেন, যা সরাসরি নির্বাচনী তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সুপার-চেকিংয়ে ধরা পড়ল তথ্যের বড় ভুল
তদন্তে জানা যায়, ভোটার শেখ রাজেশ আলির পিতার নাম হিসেবে রেকর্ডে ভুবনচন্দ্র বেরা উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ যাচাই-বাছাইয়ে স্পষ্ট হয় যে ভুবনচন্দ্র বেরা আসলে অন্য এক ভোটার, বিজয়কৃষ্ণ বেরার পিতা। এই ভুল তথ্য নথিভুক্ত হওয়ায় পর্যবেক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং প্রশ্ন তোলেন—যথাযথ নথিপত্র যাচাই ছাড়া সহকারী নির্বাচক নিবন্ধন আধিকারিক (AERO) কীভাবে এই তথ্য পোর্টালে আপলোড করলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের তথ্যগত ত্রুটি ভবিষ্যতে ভোটার শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি করতে পারে এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
গুরুতর হিসেবে বিবেচনা, কমিশনে পাঠানো হল রিপোর্ট
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পর্যবেক্ষকরা বিস্তারিত রিপোর্ট দিল্লিতে অবস্থিত ভারত নির্বাচন কমিশন-এর কাছে পাঠিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ধারণা, এটি শুধুমাত্র মানবিক ভুল নয়, বরং প্রক্রিয়াগত ত্রুটির ইঙ্গিতও হতে পারে।
১.৫ কোটি নোটিস, লক্ষ লক্ষ অসংগতি
রাজ্যে চলমান SIR প্রক্রিয়ার সময় প্রায় ১.৫ কোটি নোটিস জারি করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে—
- ৩২ লক্ষ ‘আনম্যাপড’ ভোটার
- প্রায় ১.২ কোটি যৌক্তিক অসংগতিযুক্ত নাম
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাত্র দু’দিন আগেও ১,১৪,৭৭২টি নথি এখনো সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করা বাকি ছিল, যা পুরো প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিচ্ছে।
২৮ ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশে দেরির আশঙ্কা
কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও প্রযুক্তিগত কারণে বিলম্বের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। জানা গেছে, শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও বিপুল সংখ্যক নথি এখনও অনলাইন পোর্টালে আপলোড করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়াও, যেসব ৩৫,০০০ আবেদনকারীর নথি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়নি, তাঁদের অযোগ্য ঘোষণা করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে।
স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক সতর্কতা নিয়ে নতুন বিতর্ক
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা, ডেটা যাচাই এবং প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনায় সামান্য গাফিলতিও বৃহত্তর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে রাজ্যজুড়ে আরও কঠোর যাচাই ও ডেটা অডিট প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অসংগতি আর না ঘটে এবং ভোটারদের আস্থা অটুট থাকে।











