অযোধ্যার পর এবার বাংলা: শান্তিপুরে তৈরি হবে ১০০ কোটির রাম মন্দির

single balaji

১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে, ২০২৮ সালের মধ্যে শান্তিপুরে গড়ে উঠবে ‘বাঙালি রাম’-এর ধাম

নদিয়া | পশ্চিমবঙ্গ:
অযোধ্যায় ভব্য রাম মন্দির নির্মাণের পর এবার বাংলাতেও রামভক্তি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক ঐতিহাসিক অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। নদিয়া জেলার শান্তিপুরে অযোধ্যার আদলে একটি বিশাল রাম মন্দির নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। এই মন্দিরটি ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই মহৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ‘শ্রী কৃত্তিবাস রাম মন্দির ট্রাস্ট’। মন্দিরের মূল ভাবনা বা থিম রাখা হয়েছে ‘বাঙালি রাম’, যা বাংলার আবেগ, সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যের সঙ্গে ভগবান রামকে যুক্ত করবে।

কৃত্তিবাস ওঝার স্মৃতিতে ‘বাঙালি রাম’

এই মন্দিরটি উৎসর্গ করা হবে পঞ্চদশ শতকের মহাকবি কৃত্তিবাস ওঝা-র প্রতি, যিনি সংস্কৃত রামায়ণের বাংলা অনুবাদ ‘শ্রী রাম পাঁচালি’ রচনা করেছিলেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাংলার ঘরে ঘরে পাঠিত এই রামায়ণের স্রষ্টার স্মৃতিতেই ‘বাঙালি রাম’-এর ধারণাকে বাস্তব রূপ দেবে এই মন্দির।

ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও বিজেপি বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, কৃত্তিবাস ওঝা ভগবান রামকে বাংলার মাটির আবেগ ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। বাংলায় ভগবান রামকে অনেক জায়গায় আদর করে ‘হরা রাম’ বলেও ডাকা হয়, সেই ভাবনাই মন্দিরের নকশা ও শিল্পকর্মে প্রতিফলিত হবে।

১৫ বিঘা জমি, স্থানীয়দের দান

এই রাম মন্দিরটি প্রায় ১৫ বিঘা জমির উপর নির্মিত হবে। জমিটি দান করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা লিটন ভট্টাচার্য ও পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি ট্রাস্টের সদস্যরা জমির চূড়ান্ত সমীক্ষা সম্পন্ন করেছেন, যার ফলে নির্মাণকাজে গতি এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মন্দিরটি নির্মিত হলে শান্তিপুর শুধু ধর্মীয় নয়, সাংস্কৃতিক ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও জাতীয় মানচিত্রে নতুন পরিচিতি পাবে

রাজনীতির রঙও লেগেছে

মন্দির নির্মাণ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিজেপি বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি কোনও নির্বাচনী প্রকল্প নয়, বরং ২০১৭ সাল থেকেই এই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। তিনি রাজ্য সরকারসহ সব মহলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই প্রকল্পের বিরোধিতা করেছে। তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার এটিকে বিজেপির রাজনৈতিক কৌশল বলে কটাক্ষ করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন সম্প্রতি মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের প্রতিরূপ নির্মাণ সংক্রান্ত খবরও আলোচনায় রয়েছে।

ধর্ম ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই মন্দির বাস্তবায়িত হলে বাংলায় ধর্মীয় পর্যটন, স্থানীয় অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক চর্চা নতুন গতি পাবে। শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে রাম মন্দির এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।

ghanty

Leave a comment