কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি রাজ্যসভা আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠেছে। বর্তমান বিধানসভার সংখ্যা-সমীকরণ অনুযায়ী শাসক দল All India Trinamool Congress চারটি আসনে জয়ের দিকে এগিয়ে রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান, অন্যদিকে একটি আসন প্রায় নিশ্চিতভাবে Bharatiya Janata Party-এর দখলে যেতে পারে। ফলে এই আসনগুলির মধ্যে একাধিক ক্ষেত্রে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
১৬ মার্চ ভোট, মনোনয়ন পর্বেই স্পষ্ট হতে পারে চূড়ান্ত চিত্র
নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ১৬ মার্চ ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারিত হয়েছে। তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময়সীমা পার হওয়ার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে ভারত নির্বাচন কমিশন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে এই নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমিত হতে পারে এবং ফলাফল অনেকটাই পূর্বানুমানযোগ্য।
কোন কোন আসনে হচ্ছে নির্বাচন
পাঁচটি রাজ্যসভা আসনের মধ্যে তিনটি আসন শূন্য হচ্ছে সুব্রত বক্সী, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাকেত গোখলের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে।
চতুর্থ আসনটি শূন্য হয়েছে মৌসম বেনজির নূরের ইস্তফার পর, যিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।
বিধানসভায় তৃণমূলের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এই চারটি আসনে দলের জয়ের পথে বড় কোনও বাধা নেই বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
সিপিআই(এম)-এর আসনে অনিশ্চয়তা, বিজেপির লাভের সম্ভাবনা
পঞ্চম আসনটি সিপিআই(এম) নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের দখলে ছিল। বর্তমান বিধানসভায় বামফ্রন্টের প্রতিনিধিত্ব কার্যত না থাকায় এই আসন ধরে রাখা সিপিআই(এম)-এর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফলে রাজনৈতিক অঙ্ক অনুযায়ী এই আসনটি বিজেপির দিকে ঝুঁকতে পারে, যা রাজ্যসভায় দলের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করবে।
বর্তমানে বাংলার পক্ষ থেকে বিজেপির দুই রাজ্যসভা সদস্য রয়েছেন—রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য এবং উত্তরবঙ্গের অনন্ত মহারাজ। আরও একটি আসন পেলে সংসদের উচ্চকক্ষে দলের প্রভাব বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে জল্পনা ও কৌশল
তৃণমূল কংগ্রেস এখনও তাদের প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। দলীয় সূত্রে খবর, এবার নতুন মুখকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
শোনা যাচ্ছে, সুব্রত বক্সী রাজ্যসভায় যেতে অনিচ্ছুক, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভা রাজনীতিতে সক্রিয় করার পরিকল্পনা থাকতে পারে। সাকেত গোখলের নাম নিয়েও দলীয় মহলে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।
অন্যদিকে বিজেপি শিবিরে প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী এবং প্রাক্তন মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. অশোক কুমার লাহিড়ীর নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, মিঠুন চক্রবর্তী অতীতে তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন, যা এই নির্বাচনকে রাজনৈতিকভাবে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
নির্বাচন সূচি (আধিকারিক সময়সূচি)
- ২৬ ফেব্রুয়ারি: বিজ্ঞপ্তি জারি
- ৫ মার্চ: মনোনয়নের শেষ তারিখ
- ৬ মার্চ: মনোনয়নপত্র যাচাই
- ৯ মার্চ: মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন
- ১৬ মার্চ: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ এবং একই দিনে ফল ঘোষণা
রাজনৈতিক অঙ্কেই কি নির্ধারিত ফল?
বর্তমান বিধানসভার সংখ্যাগত বাস্তবতা বিচার করলে ফলাফল অনেকটাই আগাম নির্ধারিত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ এবং মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই সম্পূর্ণ ছবি স্পষ্ট হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রাজ্যসভা নির্বাচন শুধু আসন সংখ্যার লড়াই নয়, বরং ভবিষ্যতের বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশল, জোট-সমীকরণ এবং জাতীয় রাজনীতিতে বাংলার ভূমিকার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করতে পারে।











