কলকাতা: আগামী বছরের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে আসন্ন বাজেট অধিবেশনে তৃণমূল সরকার সামাজিক সুরক্ষা এবং কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিতে বড় পরিমাণে অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা করছে। বাজেট অধিবেশন আগামী সোমবার থেকে শুরু হবে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বাজেট পেশ করবেন।

‘বাংলার বাড়ি’ ও ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে বিশেষ জোর
অর্থ দপ্তরের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, “এই বছরের বাজেটে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে থাকছে। পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, সবুজ সাথী ও রূপশ্রী প্রকল্পেও বাড়তি বরাদ্দ থাকবে। যদিও বাজেটে রাজস্ব ঘাটতি বাড়তে পারে, তবুও সরকার সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ কমাবে না।”
বাংলার বাড়ি প্রকল্পের লক্ষ্য

গত বছর প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার তহবিল বন্ধ হওয়ার অভিযোগ এনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প চালু করেন। ডিসেম্বর মাসে তিনি প্রায় ১২ লক্ষ প্রান্তিক পরিবারের হাতে বাড়ি তৈরির প্রথম কিস্তির অর্থ তুলে দেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই আরও ১৬ লক্ষ উপভোক্তাকে অর্থ বরাদ্দ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
এই প্রকল্প সম্পূর্ণ রাজ্য সরকারের তহবিল দ্বারা পরিচালিত এবং উপভোক্তারা দুই পর্যায়ে তহবিল পান।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধি

২০২৪-২৫ সালের বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে অতিরিক্ত ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। সাধারণ শ্রেণির উপভোক্তাদের মাসিক ভাতা দ্বিগুণ করে ১,০০০ টাকা করা হয় এবং এসসি/এসটি সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে তা ১২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
তৃণমূল নেতাদের মতে, এই ভাতা বৃদ্ধি মহিলাদের মধ্যে তৃণমূলের জনপ্রিয়তা বাড়াতে সাহায্য করেছে। সূত্রের খবর, মহিলাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিবেচনা করে সরকার এবারে আরও ভাতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করতে পারে।

মৎস্যজীবী ও শিল্পীদের জন্য নতুন প্রকল্প
রাজ্য সরকার গত বছর সমুদ্র সাথী প্রকল্প চালু করে মৎস্যজীবীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী শিল্পীদের জন্য এককালীন ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদানের ঘোষণা করা হয়।










