তিন মৃত্যুর পরও প্রশ্নের মুখে পুলিশ–বিসিসিএল: অবৈধ কয়লা কার দায়?

single balaji

কুলটি/আসানসোল:
বিসিসিএলের দমাগোরিয়া বোদিরা কয়লা খনিতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর অবশেষে এলাকায় সচেতনতা কর্মসূচি চালাল প্রশাসন। মঙ্গলবার অবৈধভাবে কয়লা উত্তোলনের সময় খনি ধসে পড়ে তিন জনের মৃত্যু হয় এবং দু’জন গুরুতরভাবে আহত হন। এই ঘটনায় গোটা অঞ্চলজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর বুধবার পুলিশ প্রশাসন, বিসিসিএল ও সিআইএসএফ যৌথভাবে দুর্ঘটনাগ্রস্ত খনি সংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে একটি সচেতনতা শিবির আয়োজন করে। সেখানে আধিকারিকরা স্পষ্টভাবে জানান, দমাগোরিয়া বোদিরা কয়লা খনি বর্তমানে অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে এবং সেখানে প্রবেশ করলে যে কোনো সময় প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

গ্রামবাসীদের কঠোরভাবে সতর্ক করে বলা হয়, কোনো পরিস্থিতিতেই খনির ভেতরে প্রবেশ করা যাবে না এবং অবৈধ কয়লা উত্তোলন বা বহন থেকে সবাইকে দূরে থাকতে হবে। আধিকারিকদের দাবি, খনির ভিতরে মাটির ধসের প্রবণতা বেড়েছে এবং সামান্য অসাবধানতায় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

তবে এই ঘটনার পর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় কুলটি থানার কোনো ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিক কিংবা সিআইএসএফ-এর সিনিয়র অফিসার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। আরও বিস্ময়ের বিষয়, নিহতদের পোস্টমর্টেমও করা হয়নি, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে।

বুধবার কুলটি থানার অন্তর্গত চৌরাঙ্গী ফাঁড়ির ইনচার্জ কার্তিক ভুঁইয়া সিআইএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় পৌঁছে গ্রামবাসীদের খনির ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করেন এবং ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

এদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, এই খনি থেকেই দীর্ঘদিন ধরে শত শত মোটরবাইকে করে প্রকাশ্যে অবৈধ কয়লা পাচার চলছে। তাদের প্রশ্ন, এত বড় বেআইনি কার্যকলাপ চললেও তখন পুলিশ প্রশাসন কোথায় ছিল? এই অবৈধ কারবার কি প্রশাসনের অজান্তেই চলছিল, নাকি সবকিছু জেনেও নীরবতা পালন করা হচ্ছিল—তা নিয়েই উঠছে তীব্র বিতর্ক।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সচেতনতা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তার থেকেও বেশি জরুরি অবৈধ খনন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ। নাহলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। দমাগোরিয়া বোদিরা খনি দুর্ঘটনা এখন প্রশাসনের কাছে এক বড় সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ghanty

Leave a comment