ট্রাফিক নিয়ম ভাঙলেই কড়া ব্যবস্থা! বরাকরে পুলিশের বিশেষ নজরদারি

single balaji

বরাকার/আসানসোল:
আসন্ন নবরাত্রি, ঈদ, রামনবমী এবং মহাবীর জয়ন্তী উপলক্ষে বরাকরে শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে প্রশাসন তৎপর হয়ে উঠেছে। গত রাতে বরাকার ফাঁড়িতে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট (ওয়েস্ট)-এর এসিপি জৈ হুসেন-এর নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তি কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এই বৈঠকে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। মূল লক্ষ্য ছিল উৎসবের সময় কোনও রকম অশান্তি এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা।

🚫 ডিজে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কড়া নির্দেশ প্রশাসনের

বৈঠকে এসিপি জৈ হুসেন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ডিজে বাজানো যাবে না এবং সকলকে সরকারি নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

তিনি বলেন, উৎসবের আনন্দে এমন কোনও কথা বা আচরণ করা যাবে না, যা অন্য কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে। সকলকে সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রেখে উৎসব পালন করার আহ্বান জানান তিনি।

⚠️ গুজব থেকে দূরে থাকার আবেদন

পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কোনও ধরনের ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটলে অবিলম্বে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা যায়।

এছাড়াও শান্তি কমিটির সদস্যদের সমস্ত অনুষ্ঠানগুলির ওপর নজর রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

🚦 ট্রাফিক নিয়মে কড়াকড়ি

এই বৈঠকে বরাকার সাব-ট্রাফিক গার্ডের এএসআই বিনয় লায়েক ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, রাস্তার উপর গাড়ি বা বাইক দাঁড় করিয়ে বাজার বসানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এতে শহরে জ্যামের সমস্যা বেড়ে যায় এবং সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

তিনি আশ্বাস দেন, উৎসবের সময় ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও সুষ্ঠু থাকবে।

👥 উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা

এই বৈঠকে বরাকার চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি শিবকুমার আগরওয়াল, প্রাক্তন কাউন্সিলর পাপ্পু সিং, জিয়াউদ্দিন আশরফ, তোনু মুখার্জি, দীপক দুধানি, টুননি লোহিয়া, যোগেন্দ্র যাদব সহ বহু গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

তাঁরা সকলেই প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার আশ্বাস দেন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।

🔍 প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা

উৎসব মানেই আনন্দ, কিন্তু সেই আনন্দ যেন শৃঙ্খলার মধ্যে থাকে—এই বার্তাই দিল বরাকার প্রশাসন। নিরাপত্তা, সম্প্রীতি এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ—এই তিন বিষয়কে সামনে রেখেই এবারের উৎসব মরশুমে কড়া নজরদারি চালানো হবে।

এখন দেখার বিষয়, সাধারণ মানুষ কতটা সচেতন হয়ে প্রশাসনের এই নির্দেশগুলি মেনে চলেন এবং বরাকারকে শান্তিপূর্ণ রাখেন।

ghanty

Leave a comment