বরাকর বাসস্ট্যান্ড চত্বরে বুধবার গভীর সন্ধ্যায় যেন ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠল। কেন্দ্রীয় সরকারের আনা শ্রম কোড বিলের বিরুদ্ধে সিপিএম ঘনিষ্ঠ সিটু পথসভা আয়োজন করে এবং প্রতীকী প্রতিবাদে বিলটির কপি আগুনে পোড়ায়। শ্রমিকদের স্লোগানে তখন মুখর গোটা এলাকা—
“শ্রমিকের পরিশ্রম, পুঁজিপতির লাভ– এ চলবে না, চলবে না!”
✊ “চার শ্রম কোডই শ্রমিকবিরোধী” — সুজিত ভট্টাচার্য
সভায় সিটুর প্রবীণ নেতা সুজিত ভট্টাচার্য তীব্র আক্রমণ করে বলেন—
“কেন্দ্র সরকার ধারাবাহিকভাবে শ্রমিকের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত করছে। চারটে শ্রম কোডকে তারা রিফর্ম বলছে, আসলে এগুলো শ্রমিকের বিরুদ্ধে রিফর্ম, পুঁজিপতিদের পক্ষে রিফর্ম।”
তিনি অভিযোগ করেন,
- নতুন শ্রম কোডের মাধ্যমে কাজের স্থায়িত্ব কমছে,
- ছাঁটাই সহজ হচ্ছে,
- সংগঠিত ও অসংগঠিত—দু’ধরনের শ্রমিকই চরম অনিশ্চয়তায় পড়ছেন।
এই দিনটিকে ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক সংগঠনগুলি ‘কালা দিবস’ হিসাবে পালিত করেছে বলেও তিনি জানান।
🏭 “রেল–সেল–কয়লা সবই পুঁজিপতিদের হাতে”
সুজিত ভট্টাচার্য আরও বলেন—
- রেল
- সেল (SAIL)
- কয়লাখনি
সব ক্ষেত্রেই আউটসোর্সিং ও বেসরকারিকরণের নামে লক্ষ লক্ষ শ্রমিককে কর্মহীন করা হচ্ছে।
তার অভিযোগ,
“আউটসোর্সিং কোম্পানিগুলোর হাতে শ্রমিকরা আজ প্রায় বন্দি। সামান্য অজুহাতে তাদের লিভে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যেন এরা মানুষ নয়, ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী।”
⚙ কুলটির শ্রমিকদের মজুরি ও নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে ক্ষোভ
তিনি বিশেষভাবে বোকারো, দুর্গাপুর, বর্নপুর ও কুলটি–র সেল ইউনিটগুলোর মজুরি বৈষম্যের কথাও তুলেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী—
- একই ধরনের কাজ,
- একই কোম্পানি,
- কিন্তু ভিন্ন মজুরি কাঠামো।
কুলটির ঠিকাদারি শ্রমিকরা
- সবচেয়ে কম মজুরি পান,
- অথচ সেখানে সেফটি গিয়ার, সেফটি সিস্টেম, বেসিক সুরক্ষা— সবই অপ্রতুল।
শ্রমিক সংগঠনগুলো এই বৈষম্যকে “ইনস্টিটিউশনাল এক্সপ্লয়টেশন” বলে উল্লেখ করেছে।
👥 কারা ছিলেন মঞ্চে?
এই পথসভায় উপস্থিত ছিলেন—
- রাধা গোমবিদ রায়
- মনোজ রজক
- সুজিত মুখার্জি
সহ অন্যান্য শ্রমিক নেতা ও কর্মীরা।
মিটিং শেষে তারা বলেন,
“আজ শুধু বিল পুড়ল, কাল রাস্তায় নামবে আরও হাজার শ্রমিক। প্রয়োজনে এই আন্দোলন গোটা শিল্পাঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।”











