ব্যাংক ধর্মঘটে স্তব্ধ বাংলা, পাঁচ দিনের কাজের দাবিতে তুঙ্গে আন্দোলন

single balaji

আসানসোল:
পশ্চিমবঙ্গে ব্যাংক ধর্মঘটের জেরে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা। টানা চার দিন সরকারি ব্যাংক বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার ব্যাংক খোলার আশায় ছিলেন গ্রাহকরা। কিন্তু ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়নস (ইউএফবিইউ)-এর ডাকে ব্যাংককর্মীদের একদিনের ধর্মঘটের জেরে ফের বন্ধ থাকল ব্যাংক পরিষেবা।

শনিবার, রবিবার ও প্রজাতন্ত্র দিবসের ছুটির পর মঙ্গলবার ব্যাংকিং পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়ার কথা থাকলেও ধর্মঘটের কারণে হতাশ হয়ে ফিরতে হয় গ্রাহকদের। নগদ লেনদেন, চেক ক্লিয়ারেন্স, পেনশন, ব্যবসায়িক লেনদেন—সব ক্ষেত্রেই বড়সড় প্রভাব পড়ে।

🏦 ২০২৪ সালের চুক্তি কার্যকরের দাবি

স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া অফিসার্স ইউনিয়নের পদাধিকারী সপ্তর্ষি মুখোপাধ্যায় জানান, ২০২৪ সালে ইন্ডিয়ান ব্যাংকস অ্যাসোসিয়েশন (আইবিএ) ও ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়নস-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়। সেই চুক্তিতে ব্যাংকের কাজের সময়সূচি সপ্তাহে পাঁচ দিনে সীমাবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই সিদ্ধান্ত আজও কার্যকর হয়নি।

তিনি আরও বলেন, এই দাবিতেই চলতি বছরের মার্চ মাসেও ব্যাংককর্মীরা ধর্মঘটে সামিল হয়েছিলেন, কিন্তু তখনও কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি।

⚠️ ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের ইঙ্গিত

সপ্তর্ষি মুখোপাধ্যায় জানান, গত সপ্তাহে ইউএফবিইউ-এর সাধারণ সম্পাদক রূপম রায়-এর সঙ্গে আইবিএ-এর দু’দফা বৈঠক হলেও পাঁচ দিনের কাজের বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট দিন ঘোষণা করা হয়নি।

এই অবস্থায় ২০২৪ সালের চুক্তি অবিলম্বে কার্যকর করার দাবিতে এই একদিনের ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। ব্যাংক ইউনিয়নগুলি স্পষ্ট করে দিয়েছে, দাবি মানা না হলে আগামী দিনে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে যাওয়া হবে

👥 সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ

ব্যাংক ধর্মঘটের জেরে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন প্রবীণ নাগরিক, পেনশনভোগী ও ছোট ব্যবসায়ীরা। বহু মানুষ এটিএম ও শাখার সামনে ঘুরেও পরিষেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। রাজ্যজুড়ে ব্যাংক ধর্মঘট এখন জনজীবনের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ghanty

Leave a comment