আসানসোল: আসানসোল পুরনিগমের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে রেল প্রশাসনের হঠাৎ রোড ব্লক করে দেওয়া ঘিরে মঙ্গলবার উত্তেজনা ছড়াল। GT রোডের ট্রাফিক জিমখানা মোড় থেকে রেলস্টেশন, কাল্লা, জেলা হাসপাতাল ও বিভিন্ন স্কুলে যেতে এই রাস্তা ছিল অন্যতম প্রধান ‘কানেক্টিং রুট’। হঠাৎই রেল প্রশাসন লোহার ব্যারিকেড বসিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিলে বিপাকে পড়েন হাজারো যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
📍 খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান তৃণমূল কাউন্সিলর মামিতা বিশ্বাস।
RPF কর্তারা জানান—উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে।
⚠️ “এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হবে”—কাউন্সিলর মৌমিতা বিশ্বাস
কাউন্সিলর মৌমিতা বিশ্বাস তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন—
“এই রাস্তা বহু লোকের জীবন-রোজকারের প্রধান সংযোগ। জেলা হাসপাতাল, স্টেশন, স্কুল–কলেজে যেতে মানুষ প্রতিদিন এই রাস্তাই ব্যবহার করেন। চারচাকা গাড়ি আগে থেকেই নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন দুইচাকাও বন্ধ করে দেওয়ায় মানুষের ভোগান্তি চরমে।”
তিনি আরও জানান, রেল আগে এমন চেষ্টা করলেও স্থানীয়দের আপত্তিতে বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়েছিল।
এবারও রাস্তা অবিলম্বে খুলে না দিলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পাশাপাশি রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উচ্চস্তরের বৈঠক ডাকবেন বলেও জানান।
😡 স্থানীয়দের ক্ষোভ—‘স্কুল-হাসপাতালে যেতে এখন অতিরিক্ত কয়েক কিলোমিটার ঘুরতে হচ্ছে’
অসন্তুষ্ট স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য—
“বছরের পর বছর ধরে এই রাস্তা ব্যবহার করছি। কোনো সমস্যা হয়নি। রেল প্রশাসনের এভাবে হঠাৎ রাস্তা বন্ধ করার ফলে প্রতিদিন বাচ্চাদের স্কুলে পৌঁছাতে অনেক দেরি হচ্ছে, রোগীদের হাসপাতালে নিতে সময় লাগছে। আমাদের নিত্যদিনের জীবন প্রায় থমকে গেছে।”
স্থানীয়রা এই সিদ্ধান্তের অবিলম্বে প্রত্যাহার দাবি করেছেন।
🚫 প্রথমে চারচাকা নিষেধ, এখন দুইচাকাও বন্ধ — ‘এটা কোন যুক্তি?’ প্রশ্ন সাধারণ মানুষের
আগে থেকেই চারচাকার প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু নতুন লোহার ব্যারিকেড বসিয়ে এখন বাইক–সাইকেলও বন্ধ।
প্রতিদিন যাতায়াত করা সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—
“যে রাস্তায় ট্রাফিকের চাপ কম, যা মূলত ছোট যানবাহন ব্যবহার করে—সে রাস্তাই বন্ধ করে দেওয়ার যুক্তি কোথায়?”
স্কুলপড়ুয়া শিশু, রোগী, অফিসগামী সকলেরই বিপুল অসুবিধা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রের খবর, রাস্তা বন্ধের বিষয়ে আগে থেকে জনগণকে কোনও নোটিস বা সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়নি। এর ফলে মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাস্তায় প্রচণ্ড বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।
অনেকেই জানান, রেলয়ের পক্ষ থেকে “সিকিউরিটি ইস্যু” দেখানো হলেও, সেই কারণ স্পষ্ট করে প্রকাশ করা হয়নি।
সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে—
অনেকে লিখেছেন, “মানুষের অসুবিধা বোঝার মতো কেউ রেলে নেই?”
আরও অনেকে দাবি তুলেছেন—
“সরকার ও পুরনিগমকে হস্তক্ষেপ করতে হবে।”











