আসানসোল: পশ্চিমবঙ্গে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। আর প্রথম দিনেই এক পরীক্ষার্থীর সামনে তৈরি হয় বড় সঙ্কট। বাড়িতেই ভুলে রেখে এসেছে তার অ্যাডমিট কার্ড। সময় তখন প্রায় ফুরিয়ে আসছে।
এনসি এলাকার বাসিন্দা সায়ন চট্টোপাধ্যায় যখন নিজের ভুল বুঝতে পারে, তখন পরীক্ষার সময় একেবারে দোরগোড়ায়। পরিবারে নেমে আসে উদ্বেগের ছায়া। এক বছরের কঠোর পরিশ্রম কি তবে বৃথা যাবে?
🚦 মানবিক উদ্যোগে ট্রাফিক অফিসার
এই খবর পৌঁছয় আসানসোল নর্থ ট্রাফিক গার্ডের কার্ড শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক সঞ্জয় কুমার ভাগা-র কাছে। বিষয়টি জানামাত্র তিনি সময় নষ্ট না করে দ্রুত পদক্ষেপ করেন।
নিজের গাড়িতে করে সায়নকে নিয়ে যান ইথুরা গ্রামে, সেখান থেকে সংগ্রহ করা হয় অ্যাডমিট কার্ড। শুধু তাই নয়, পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ের আগেই সুরক্ষিতভাবে তাকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেন তিনি। ফলে সায়ন সময়মতো পরীক্ষায় অংশ নিতে সক্ষম হয়।
🌟 পুলিশের মানবিক মুখ
নর্থ ট্রাফিক গার্ডের এই উদ্যোগে খুশির হাওয়া বইছে ছাত্র ও তার পরিবারের মধ্যে। পরিবারের সদস্যরা ট্রাফিক আধিকারিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের কথায়, “সময়মতো সাহায্য না পেলে এক বছরের পরিশ্রম নষ্ট হয়ে যেত।”
স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ঘটনার প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, পুলিশের এই মানবিক আচরণ সমাজের কাছে এক বড় বার্তা—কর্তব্যের পাশাপাশি সহমর্মিতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনের এই ঘটনা আসানসোল জুড়ে ইতিমধ্যেই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সঞ্জয় কুমার ভাগার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, প্রয়োজনে পুলিশই হতে পারে একজন শিক্ষার্থীর সবচেয়ে বড় সহায়।











