পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল শহরে ভোরবেলায় ঘটে যাওয়া এক রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকাজুড়ে। মৃত যুবকের নাম সারফুদ্দিন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে, আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
মৃতের দাদা মহম্মদ জুল জানিয়েছেন, সারফুদ্দিনের একটি গ্রিল ও রডের দোকান ছিল এবং কারও সঙ্গে তাঁর কোনও শত্রুতা বা বিবাদ ছিল না। তা সত্ত্বেও সকালে একটি গাড়িতে করে আসা কয়েকজন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি তাঁকে গুলি করে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। এই ঘটনাই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
পরিবারের দাবি, সারফুদ্দিনের সঙ্গে কারও কোনও ঝামেলা না থাকায় এই ঘটনার পিছনে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। মৃতের ভাইপো মহম্মদ সানু জানান, ভোরবেলা তাঁর মা তাঁকে ঘুম থেকে ডেকে বলেন, কাকু সারফুদ্দিনের উপর হামলা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে নাক দিয়ে রক্ত, পাশে পড়ে ছিল আগ্নেয়াস্ত্র
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সারফুদ্দিনের নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল এবং তাঁর কাছেই একটি আগ্নেয়াস্ত্র পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাঁকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তবে এখানেই তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন। মহম্মদ সানু স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন, তাঁর কাকুর মৃত্যু গুলির আঘাতে নয়। তাঁর মতে, নাকে গুরুতর আঘাত লাগা বা অন্য কোনও শারীরিক আঘাতের কারণেই মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
পুলিশি তদন্তে উদ্ধার পিস্তল ও খালি খোসা
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল ও একটি খালি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তবে প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ভোরের এই ঘটনায় গোটা এলাকায় এখন আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।











