আসানসোল :
আসানসোল পুরনিগমের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার কালিপাহাড়ি কুর্তিয়া পাড়া সংলগ্ন জঙ্গল থেকে বৃহস্পতিবার এক হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে এসেছে। স্থানীয়দের চোখে প্রথমে পড়ে জঙ্গলে পড়ে থাকা এক নবজাতকের মরদেহ। খবর দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ। পরে নবজাতকের মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
📌 মানবতার উপর প্রশ্নচিহ্ন
ঘটনাটি আবারও মানবতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। সদ্যোজাত এক নিরপরাধ শিশুকে জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জঙ্গলে ফেলে দেওয়া—এ যেন সমাজের চরম নির্মমতার ছবি। এলাকাবাসীর কথায়—
“কী এমন অসহায়তা বা পরিস্থিতি একজন মা-বাবাকে এতটা নিষ্ঠুর করে তুলতে পারে যে তারা নিজের সন্তানকেই মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিলেন?”
📌 আক্রোশ ও আলোচনা
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সমগ্র ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে ক্ষোভ ও আলোড়ন ছড়িয়ে পড়ে।
- কেউ এটিকে দারিদ্র্য ও সামাজিক চাপে বাধ্য হওয়ার ফলাফল বলছেন।
- আবার অনেকে সরাসরি একে অপরাধ ও সংবেদনশীলতার অভাব হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
📌 পুলিশি তদন্ত শুরু
আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখনও স্পষ্ট নয়, শিশুটি জন্মের পরেই মারা গিয়েছিল নাকি ইচ্ছে করে জঙ্গলে ফেলে রাখা হয়েছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে প্রকৃত কারণ সামনে আসবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
📌 সমাজের সামনে বড় প্রশ্ন
এটি শুধুমাত্র একটি পুলিশি মামলা নয়, বরং গোটা সমাজের কাছে এক বড় প্রশ্ন।
- কেন বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে?
- এর নেপথ্যে কি দারিদ্র্য ও অসহায়তা, নাকি নিছকই নিষ্ঠুর মানসিকতা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজে সচেতনতা বাড়ানো এবং শিশু দত্তক নেওয়ার মতো নিরাপদ পথ সহজলভ্য করে তোলা জরুরি। তাহলেই এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হতে পারে।











