নেতাজি জয়ন্তীতে আসানসোলে চরম অবহেলা, INA স্মৃতিসৌধে পড়েনি একটি ফুলও

single balaji

আসানসোল :
দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে আসানসোল শহরে চরম অবহেলার ছবি সামনে এসেছে। আসানসোল পুরনিগমের উদ্যোগে গড়ে ওঠা আজাদ হিন্দ ফৌজ (INA) স্মৃতিসৌধে নেতাজির জন্মদিনে একটি ফুল বা মালাও অর্পণ করা হয়নি, এমনই অভিযোগ উঠেছে পুরনিগম প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

স্মৃতিসৌধ চত্বরে দেখা যায় শুধুমাত্র একটি পুরনো পুষ্পাঞ্জলি পড়ে রয়েছে। কিন্তু পুরনিগমের পক্ষ থেকে কোনও সরকারি শ্রদ্ধার্ঘ্য, মাল্যদান বা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়নি। এই দৃশ্য ঘিরে ক্ষোভ ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক মহলে।

INA শহিদদের স্মরণে তৈরি ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধ

স্মৃতিসৌধে লাগানো শিলালিপিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, এটি আজাদ হিন্দ ফৌজের শহিদদের উদ্দেশে উৎসর্গীকৃত। শিলালিপি অনুযায়ী, এই স্মৃতিসৌধটি সিঙ্গাপুরে নির্মিত INA মেমোরিয়ালের অনুকরণে তৈরি, যা একসময় ব্রিটিশ সেনাবাহিনী ধ্বংস করে দিয়েছিল।
এই স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন হয় ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ সালে, নেতাজির জন্মদিনেই। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি সহ একাধিক জনপ্রতিনিধি।

নিজে শ্রদ্ধা জানাতে পৌঁছলেন প্রাক্তন মেয়র, তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ

চলতি বছর নেতাজি জয়ন্তীতে প্রাক্তন মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি নিজে INA স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। সেই সময় তিনি তৃণমূল কংগ্রেস এবং পুরনিগম প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন।

তিনি বলেন,
“তৃণমূল কংগ্রেস উন্নয়ন পঞ্চালী প্রচারে ব্যস্ত, কিন্তু যাঁরা দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন, তাঁদের স্মৃতিসৌধে একটি ফুল দেওয়ারও সময় নেই।”

তাঁর বক্তব্য, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও আজাদ হিন্দ ফৌজের অবদান ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অমূল্য। সেই মহান ব্যক্তিত্বের জন্মদিনে এমন অবহেলা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দুর্ভাগ্যজনক

গোটা রাজ্যে অনুষ্ঠান, আসানসোলে নীরবতা

জিতেন্দ্র তিওয়ারি আরও প্রশ্ন তোলেন—একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যজুড়ে নেতাজি জয়ন্তী উপলক্ষে বড় বড় অনুষ্ঠান করছেন, অন্যদিকে আসানসোলে পুরনিগমের তরফে কোনও সরকারি অনুষ্ঠান বা শ্রদ্ধানুষ্ঠানই দেখা গেল না

সাধারণ মানুষের ক্ষোভ

স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, INA স্মৃতিসৌধের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা উচিত এবং জাতীয় মহাপুরুষদের জন্মদিন ও মৃত্যুদিনে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে শ্রদ্ধানুষ্ঠান আয়োজন করা দরকার।

ghanty

Leave a comment