আসানসোল:
আসানসোল পুরনিগমের সাফাই কর্মীদের ধর্মঘট টানা দ্বিতীয় দিনেও অব্যাহত থাকায় শহরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। পুরনিগম এলাকার একাধিক ওয়ার্ড ও জনবহুল অঞ্চলে রাস্তায় রাস্তায় আবর্জনার স্তূপ জমে উঠেছে। নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে, পাশাপাশি বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও।
দ্বিতীয় দিনেও সাফাই কর্মীরা আসানসোল পুরনিগম ভবনের সামনে ধর্না ও বিক্ষোভ চালিয়ে যান। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা ও ন্যায্য দাবিগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।
এদিকে, আসানসোল পুরনিগমের বিরোধী দলনেত্রী চৈতালি তিওয়ারি সাফাই কর্মীদের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, কর্মীরা তাঁদের ন্যায্য দাবির জন্যই আন্দোলনে নেমেছেন। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা।
অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপি নেতা কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেস সঠিকভাবে আসানসোল পুরনিগম পরিচালনা করতে ব্যর্থ হওয়াতেই সাফাই কর্মীদের ধর্মঘটে নামতে হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এখনও সাফাই কর্মীদের প্রাপ্য পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস বোর্ডের উচিত নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করা।
সাফাই কর্মীদের ধর্মঘটের জেরে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে আবর্জনা জমে থাকায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে এখন সাধারণ মানুষও সাফাই কর্মীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাতে শুরু করেছেন।
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে আসানসোল পুরনিগমের মেয়র বিধান উপাধ্যায় সংশ্লিষ্ট আধিকারিক এবং মেয়র পরিষদের বরো চেয়ারম্যানদের সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকের পর মেয়র আশ্বাস দেন যে, খুব শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান করা হবে। তবে এখনও পর্যন্ত ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি।
শহরবাসীর এখন একটাই প্রত্যাশা—দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে ধর্মঘটের অবসান ঘটুক এবং আসানসোল শহরের স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা পুনরায় ফিরিয়ে আনা হোক।











