আসানসোলের জনগণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম নেতা প্রয়াত মহাদেব মুখোপাধ্যায়ের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি শ্রীপল্লীর মুখার্জি হাউসে একাধিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে আসানসোলের পুলিশ লাইন সংলগ্ন বার্নপুর রোডের একটি হোটেলে মহাদেব মুখোপাধ্যায় জন কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানান তাঁর পুত্র, বিশিষ্ট শিল্পপতি মৃত্যুঞ্জয় মুখোপাধ্যায়। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হিমাদ্রি মুখোপাধ্যায় ও নীলোৎপল রায়চৌধুরী।
🌺 মাল্যদানের মাধ্যমে সূচনা
২২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টায় প্রয়াত নেতার মূর্তিতে মাল্যদান ও শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মধ্য দিয়ে দুদিনের কর্মসূচির সূচনা হবে। সকাল ১০টা থেকে মুখার্জি হাউসে রক্তদান শিবির ও চক্ষু পরীক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হবে।
সকাল ১১টায় মহাদেব মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও আদর্শ নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন বিশিষ্টজনেরা সেখানে তাঁর সংগ্রামী জীবন ও রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে আলোকপাত করবেন।
🎭 সংস্কৃতি ও প্রতিযোগিতার আয়োজন
২২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, বিকেলে অঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। পরে রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলগীতি ও আধুনিক বাংলা গানের প্রতিযোগিতা হবে। সন্ধ্যা ৭টা থেকে বিভিন্ন বিভাগে নৃত্য প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে শহরের বহু প্রতিযোগী অংশ নেবেন।
✍️ কবি সম্মেলন ও লোকগীতি
২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কবি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠিত হবে লোকগীতির বিশেষ অনুষ্ঠান, যা সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আয়োজকদের আশা।
🏆 ‘আসানসোল সেরা’ সম্মান প্রদান
২৩ ফেব্রুয়ারি রাতের অনুষ্ঠানে ‘আসানসোল সেরা’ সম্মান ও পুরস্কার প্রদান করা হবে। শহরের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আজীবন অবদানের জন্য সম্মানিত করা হবে মুক্তি রায়চৌধুরী, গিয়াসউদ্দিন দালাল, নুপুর কাজি, দ্বীপ নারায়ণ নায়েক, প্রবীর ধর, সনৎ বক্সি, সমীপ্রেন্দ্র লাহিড়ী, স্বরাজ দত্ত, সঞ্জীবন বন্দ্যোপাধ্যায়, পাপিয়া মিত্র, মৌসুমি চট্টোপাধ্যায়, সুশান্ত রায় ও বীণা পালকে।
🕊️ আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়াস
মৃত্যুঞ্জয় মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমার বাবা মহাদেব মুখোপাধ্যায় একজন নকশালপন্থী নেতা ছিলেন। তিনি সমাজে শোষণ বন্ধের লক্ষ্যে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। এমন এক সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখতেন, যেখানে কেউ কাউকে শোষণ করবে না। তাঁর সেই আদর্শকে বাস্তব রূপ দেওয়ার ছোট্ট প্রয়াস হিসেবেই এই আয়োজন।”
তিনি আসানসোলের সাধারণ মানুষকে ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারির এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক সংগ্রাম, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং সংস্কৃতির সমন্বয়ে মহাদেব মুখোপাধ্যায়ের স্মরণসভা এ বছর এক বৃহৎ সামাজিক উৎসবে পরিণত হতে চলেছে বলে মনে করছেন শহরের নাগরিকরা।











