আসানসোল: শহরের কালী পাহাড়ি ডাম্পিং গ্রাউন্ডে মঙ্গলবার হঠাৎ ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়। আসানসোল পৌর নিগমের অধীনে পরিচালিত এই ডাম্পিং গ্রাউন্ডে কচরের স্তূপে আগুন কীভাবে লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ধোঁয়ায় ঢেকে গেল গোটা এলাকা
আগুন লাগার পর থেকেই চারিদিকে ঘন কালো ধোঁয়ার আস্তরণ ছড়িয়ে পড়েছে, যার জেরে আশপাশের মানুষ চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ—
- শ্বাসকষ্ট ও দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে
- চোখে জ্বালা ও অস্বস্তি বাড়ছে
- বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের অবস্থা আরও খারাপ
এনএইচ-১৯-এ বিপজ্জনক পরিস্থিতি
আগুন থেকে নির্গত ধোঁয়া পৌঁছে গেছে জাতীয় সড়ক এনএইচ-১৯ পর্যন্ত। ফলে—
- দিনের বেলাতেও গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে হচ্ছে
- দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় যেকোনও সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে
এই পরিস্থিতিতে হাইওয়ে ব্যবহারকারী চালকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
বারবার একই ঘটনা, ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন—
- এই ডাম্পিং গ্রাউন্ডে আগেও বহুবার আগুন লেগেছে
- একাধিক অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও স্থায়ী সমাধান হয়নি
তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের অবহেলার কারণেই এই সমস্যা বারবার ফিরে আসছে।
দমকলের তৎপরতা, তবুও আগুন নিয়ন্ত্রণে নয়
ঘটনার খবর পেয়ে দমকল বিভাগের একটি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় এবং আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।
তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত—
- আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি
- কচরের স্তূপে আগুন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে
স্বাস্থ্য ও পরিবেশে মারাত্মক প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, কচরের আগুন থেকে নির্গত ধোঁয়ায় বিষাক্ত গ্যাস মিশে থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে মানুষের স্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
এই ঘটনায় আবারও আসানসোল পৌর নিগমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি—
- ডাম্পিং গ্রাউন্ডে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হোক
- আগুন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক
সব মিলিয়ে, এই আগুন শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং শহরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে।














