আসানসোল | পশ্চিমবঙ্গ
আসানসোলের হেলথ ওয়ার্ল্ড হাসপাতালে শনিবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, চিকিৎসায় চরম গাফিলতির জেরেই মৃত্যু হয়েছে তিন বছরের শিশুকন্যা প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায়–এর। ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
🌡️ জ্বর- বমি নিয়ে ভর্তি, সারা রাত চিকিৎসা ছাড়াই?
মৃত শিশুর বাবা বিজয় মুখোপাধ্যায়, রাণীগঞ্জের সিয়ারসোল এলাকার বাসিন্দা। তাঁর দাবি, শুক্রবার রাত প্রায় ৯টা ৩০ মিনিটে জ্বর ও বমির সমস্যায় মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষার পর শিশুটিকে অক্সিজেনে রাখা হলেও, এরপর আর কার্যকর কোনও চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
পরিবারের অভিযোগ, প্রিয়াঙ্কা বারবার জল চাইছিল এবং অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করছিল, কিন্তু হাসপাতালের কর্মীরা জল দিতে অস্বীকার করেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, জল দিলে বমি হতে পারে। পরিবারকে জানানো হয়, শনিবার রক্ত পরীক্ষা হবে, রিপোর্ট এলে তবেই ওষুধ শুরু হবে। অভিযোগ, পুরো রাত শিশুটিকে কোনও ওষুধই দেওয়া হয়নি।
⏰ সকালেই অবস্থার অবনতি, মৃত্যু
পরিবারের দাবি, শনিবার সকাল হতে না হতেই প্রিয়াঙ্কার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। এরপরই অভিযোগ ওঠে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিবারের লোকজনকে ভিতরে ঢুকতে বাধা দেয় এবং বাইরে বের করে দেয়।
🚨 হাসপাতালের বাইরে বিক্ষোভ, দেহ দেখানোর দাবি
খবর ছড়াতেই হাসপাতালের বাইরে ভিড় জমে যায়। মৃত শিশুর দেহ দেখানো, রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কী চিকিৎসা হয়েছে তার সম্পূর্ণ হিসেব চেয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হয়, এটি একটি চিকিৎসাজনিত অবহেলা, এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
👮 পুলিশি উপস্থিতি ও রাজনৈতিক অভিযোগ
পরিবারের আরও অভিযোগ, হাসপাতাল কর্মীদের রক্ষা করতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ঘটনায় সরব হয়েছেন বিজেপির রাজ্যস্তরের নেতা কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এই হাসপাতালে ডাক্তারের থেকে বাউন্সারের সংখ্যা বেশি।” তাঁর অভিযোগ, শাসকদলের কিছু প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় হাসপাতালটি চলছে এবং সেই কারণেই একের পর এক অনিয়ম হচ্ছে। বিজেপি মৃত শিশুর পরিবারের পাশে রয়েছে বলেও তিনি জানান।
⚠️ এলাকায় চাপা উত্তেজনা, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
ঘটনার পর গোটা এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে। পরিবার ও স্থানীয় মানুষের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, হাসপাতালের ভূমিকা খতিয়ে দেখা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—এইভাবে যদি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলে, তবে ছোট শিশুদের জীবন কতটা নিরাপদ?














