আসানসোল, পশ্চিম বর্ধমান:
চলন্ত ট্রেন থেকে এক হকারকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রেল সুরক্ষা বাহিনী (RPF)-এর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার, যখন চেন্নাই-গুয়াহাটি এক্সপ্রেস আসানসোল স্টেশনে প্রবেশ করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার ফলে ওই হকার গুরুতরভাবে আহত হন এবং তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
😠 হকার মহলের ক্ষোভ:
ঘটনার পর থেকেই আসানসোলের হকারদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁরা অভিযোগ তুলেছেন—
“প্রতিদিনই আমাদের হেনস্থা করে RPF। আমাদের মারধর করে, তাড়িয়ে দেয়, আর আজ তো প্রাণটাই চলে যাচ্ছিল!”
হকারদের দাবি, ট্রেনের মধ্যে বারবার RPF-র তরফে দুর্ব্যবহার এবং অত্যাচার চলে আসছে। এদিনও একইভাবে ‘হকার তাড়ানোর’ নাম করে চলন্ত ট্রেন থেকে একজন হকারকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়।
🛑 রেল কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া:
রেল প্রশাসন অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রেলের এক সিনিয়র অফিসার বলেন:
“অবৈধ হকারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। তবে যদি সত্যিই এমন কিছু ঘটেছে, তদন্ত করে প্রয়োজনে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
🏥 হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হকার:
আসানসোল জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত হকারের মাথায় এবং পিঠে গুরুতর আঘাত লেগেছে। তিনি ICU-তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা অত্যন্ত সংকটজনক।
❓ প্রশ্ন উঠছে RPF-এর ভূমিকা নিয়ে:
- কি করে চলন্ত ট্রেন থেকে মানুষ পড়ে যায় রেল পুলিশের উপস্থিতিতে?
- অভিযান কি এতটাই রূঢ় হতে পারে যে কাউকে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দিতে হবে?
- তদন্ত করেই বা কতটা দায় স্বীকার করে রেল প্রশাসন?
📣 হকারদের দাবি:
- অভিযুক্ত RPF জওয়ানের অবিলম্বে গ্রেপ্তার
- CCTV ফুটেজ প্রকাশ
- হকারদের উপর অত্যাচার বন্ধ ও বিকল্প ব্যবস্থা
🔚 উপসংহার:
যদি RPF-এর ভূমিকা সত্যিই এমন হয়, তাহলে তা শুধু অমানবিক নয় — এটি আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। রেল যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে যদি কারো জীবন বিপন্ন হয়, তাহলে দায়িত্বশীলদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো জরুরি।










