আসানসোল গ্রাম এ বছর বসন্তের রঙে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠল। আসানসোল গ্রাম বসন্ত উৎসব কমিটি-র উদ্যোগে ২০তম বসন্ত উৎসব পালিত হল অত্যন্ত ধুমধাম ও উৎসাহের সঙ্গে। গোটা গ্রামজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ, আর সেই আবহেই মানুষজন সকলে মিলে রঙিন আনন্দে সামিল হন।
রামসায়র ময়দান থেকে বর্ণাঢ্য প্রভাত ফেরি
উৎসব উপলক্ষে রামসায়র ময়দান থেকে একটি বিশাল প্রভাত ফেরির আয়োজন করা হয়। এই প্রভাত ফেরি আসানসোল গ্রামের বিভিন্ন প্রান্ত পরিক্রমা করে। ছোট শিশু থেকে শুরু করে যুবক-যুবতী, প্রবীণ—সমাজের সব স্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
প্রভাত ফেরির পথে পথে দেখা যায় ঐতিহ্যবাহী পোশাক, সাংস্কৃতিক শোভাযাত্রা এবং রঙিন আবহ। অনেকেই বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ফুল ছড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান।
ঢামসা-মাদল ও কীর্তনের সুরে মুখর পরিবেশ
প্রভাত ফেরিতে অংশ নেয় কীর্তনের দল। তাঁদের সঙ্গে ছিল ঢামসা ও মাদল বাদকদের একটি বিশেষ দল। ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের তালে ও ভক্তিমূলক গানের সুরে গোটা পরিবেশ হয়ে ওঠে সুরম্য ও আধ্যাত্মিক।
লোকসঙ্গীতের আবেশে গ্রামের মানুষ নেচে-গেয়ে বসন্তকে বরণ করে নেন। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এই মেলবন্ধন উৎসবকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত।
গ্রামবাসীর অংশগ্রহণেই বিশেষ হয়ে উঠল উৎসব
আয়োজকদের মতে, ২০ বছরের এই ধারাবাহিকতায় বসন্ত উৎসব এখন শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং গ্রামের ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক। স্থানীয় বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনও বিশেষ পরিবেশনা দেয়, যা দর্শকদের মন জয় করে নেয়।
ঐতিহ্যের ২০ বছর, নতুন উদ্দীপনায় বসন্ত বরণ
আসানসোল গ্রামের ২০তম বসন্ত উৎসব প্রমাণ করে দিল—গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের শক্ত ভিত আজও অটুট। প্রভাত ফেরিতে উপচে পড়া জনসমাগমই তার সাক্ষ্য।
ঢামসা-মাদলের তালে, কীর্তনের সুরে আর বসন্তের মাদক হাওয়ায় রঙিন হয়ে উঠল আসানসোল গ্রাম। এই উৎসব আগামী দিনেও গ্রামের মানুষকে একসূত্রে বাঁধবে—এমনটাই আশাবাদ আয়োজকদের।














