আসানসোল: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বড় পদক্ষেপ নিল আসানসোল–দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে থাকা এই কমিশনারেট থেকে একটি নির্দেশ জারি করে জানানো হয়েছে যে কমিশনারেট এলাকার সমস্ত লাইসেন্সধারী আগ্নেয়াস্ত্রধারীদের তাদের অস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে হবে।
পুলিশ প্রশাসনের মতে, নির্বাচনের সময় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাত দিনের মধ্যে অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ
জারি করা নির্দেশে বলা হয়েছে, নোটিস পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে লাইসেন্সধারীদের তাদের আগ্নেয়াস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে হবে।
এই অস্ত্রগুলি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়া এবং ভোট গণনা শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পর পর্যন্ত থানায় জমা থাকবে। এই সময়ের মধ্যে কমিশনারেট এলাকার মধ্যে কেউই আগ্নেয়াস্ত্র বা গোলাবারুদ নিয়ে চলাফেরা করতে পারবেন না।
পুলিশের মতে, নির্বাচনের সময় সম্ভাব্য অশান্তি বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তার কাজে যুক্তদের জন্য ছাড়ের সুযোগ
তবে প্রশাসনের তরফে কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
- ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত লাইসেন্সধারী কর্মী
- কারখানা বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা রক্ষী
এই ধরনের ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় কারণ ও নথিপত্র দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় আবেদন করলে বিশেষ ছাড় পেতে পারেন।
খেলোয়াড়দের জন্যও বিশেষ ছাড়
নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন-এর সদস্য এবং বিভিন্ন শুটিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়, যারা ক্রীড়া উদ্দেশ্যে রাইফেল ব্যবহার করেন, তারা এই নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পাবেন।
পুলিশ আধিকারিকদের বিশেষ নির্দেশ
কমিশনারেটের পক্ষ থেকে সব থানার ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ (আইসি) এবং অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে তারা লাইসেন্সধারীদের কাছ থেকে অস্ত্র উপযুক্ত রসিদ দিয়ে গ্রহণ করবেন এবং নির্বাচন শেষ হওয়ার পরে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হলে তা ফিরিয়ে দেবেন।
এছাড়াও সমস্ত লাইসেন্সধারীকে অবিলম্বে নোটিস পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের মতে, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পুলিশ এবং প্রশাসন ইতিমধ্যেই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে এবং যেকোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা রুখতে কঠোর নজরদারি চালানো হবে।














