এক ইস্যু, দুই মঞ্চ! আসানসোলে কংগ্রেসের আন্দোলনে সামনে এল অন্তর্কলহ

single balaji

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ক্রমশ উত্তাপ বাড়ছে। নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্যে রাজনৈতিক দলগুলির তৎপরতা বেড়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করছে, আর অন্যদিকে বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিএম এবং কংগ্রেস জনসংযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই এসআইআর ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনে নেমেছে কংগ্রেস। মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল শহরেও এই ইস্যুতে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি নেওয়া হয়। তবে এই আন্দোলনের মধ্যেই দলের অভ্যন্তরীণ মতভেদের ছবি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, কারণ একই দিনে একই ইস্যুতে দুটি আলাদা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

রাস্তা অবরোধ ও কুশপুতুল দাহ

আসানসোল নর্থ ব্লক কংগ্রেসের উদ্যোগে আসানসোল জিটি রোড থেকে চার্চ মোড় পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করা হয়। এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন কংগ্রেস কাউন্সিলর ও আসানসোল নর্থ ব্লক কংগ্রেস সভাপতি এস. এম. মুস্তাফা

প্রতিবাদের অংশ হিসেবে কংগ্রেস কর্মীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর কুশপুতুল দাহ করেন এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান তোলেন।

এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের রাজ্য স্তরের নেতা প্রশ্নজিৎ পইতুনডি (রাজ্য সম্পাদক), শাহ আলম (পশ্চিম বর্ধমান অসংগঠিত শ্রমিক কংগ্রেসের সভাপতি), ফিরোজ খান (মাইনরিটি কংগ্রেস জেলা সভাপতি), ওয়াজিব হুসেন-সহ বহু নেতা ও কর্মী।

অন্যদিকে জেলা কংগ্রেসের আলাদা কর্মসূচি

একই দিনে অন্যদিকে পশ্চিম বর্ধমান জেলা কংগ্রেস সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী-র নেতৃত্বে আরেকটি বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এই কর্মসূচিতে আসানসোলের বিএনআর এলাকা থেকে মহকুমা শাসকের দপ্তর পর্যন্ত মিছিল করে এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়।

এখানে উপস্থিত ছিলেন আইএনটিইউসি নেতা হরজিৎ সিং-সহ যুব কংগ্রেসের একাধিক নেতা ও কর্মী।

একই ইস্যুতে দুই কর্মসূচি, সামনে এল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব

একই দিনে একই ইস্যু—এসআইআর—কে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের এই দুই আলাদা কর্মসূচি পশ্চিম বর্ধমান জেলার রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এতে দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

যদিও দুই পক্ষই দাবি করেছে যে তারা সাধারণ মানুষের স্বার্থে এবং ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে রাস্তায় নেমেছে। তবে আন্দোলনে ঐক্যের অভাব স্পষ্টভাবে নজরে পড়েছে।

ভোটের আগে রাজনৈতিক সমীকরণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের পরিস্থিতি আসানসোলের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

এই প্রসঙ্গে কংগ্রেসের রাজ্য নেতা প্রশ্নজিৎ পইতুনডি বলেন, গত বিধানসভা নির্বাচনে গোটা বাংলায় কংগ্রেস প্রায় ৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। কিন্তু আসানসোল লোকসভা নির্বাচনে দল প্রায় ৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, তাও আবার জোট থাকা সত্ত্বেও।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভোটের হার আরও বাড়বে এবং দল আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছবে।

ghanty

Leave a comment