আসানসোল,
কলা যখন কেবল বিনোদন নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখন তার শক্তি বহুগুণে বেড়ে যায়। ঠিক সেটাই করে দেখালেন আসানসোলের নাট্যকার ও শিল্পী সুমন চৌধুরী। তিনি কখনও রাম, কখনও সীতা, কখনও কালী— এবার তিনি মায়ের রূপে, মা দুর্গার রূপ ধারণ করে সমাজকে এক অনন্য বার্তা দিলেন।
সুমন চৌধুরীর বক্তব্য – শক্তি কোনও নির্দিষ্ট লিঙ্গের সম্পত্তি নয়।
“শক্তি পুরুষ, নারী, ট্রান্সজেন্ডার—সবার মধ্যেই সমানভাবে বিরাজমান।” এই বার্তাই তিনি তার অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরলেন।
শিল্পীর অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও গভীর করে তুলেছে। নারী সাজে নিজের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পর যেমন অনেকে প্রশংসা করেছেন, তেমনই বহুজন কটূক্তি করেছেন। তিনি বলেন –
“যখন আমায় নারী রূপে দেখে অশালীন মন্তব্য করা হয়, তখন বুঝতে পারি ট্রান্সজেন্ডার সমাজ প্রতিদিন কতটা অবহেলা আর অপমান সহ্য করে। সমাজের মানসিকতা বদলানো জরুরি।”
তিনি আরও জানান – “আমি একজন পুরুষ হয়ে নারীর ভূমিকায় অভিনয় করছি, যাতে মানুষ বোঝে যে ট্রান্সজেন্ডারদেরও সম্মান পাওয়া উচিত। আত্মা সবার সমান, তাই দৃষ্টিভঙ্গিও সমান হওয়া দরকার।”
ভারতে এখনও ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায় শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সম্মানজনক জীবনের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করছে। সুমন চৌধুরীর এই সাহসী পদক্ষেপ কেবল বৈষম্যকেই চ্যালেঞ্জ করে না, সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতেও এক নতুন আলো জ্বালায়।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক মহলের মানুষদের মতে, আসানসোল থেকে উঠে আসা এই বার্তা ট্রান্সজেন্ডার সমাজের কণ্ঠস্বরকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তাঁর এই প্রচেষ্টা প্রমাণ করছে যে পরিবর্তনের শুরু হতে পারে কলা আর সৃজনশীল প্রকাশ থেকেই।
আজকের সমাজে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল মানসিকতা বদলানো। কেবল আইন দিয়ে নয়, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ছাড়া কোনও সত্যিকারের সমতা সম্ভব নয়।











