আসানসোল:
এই ভয়ঙ্কর আইনি–বেআইনি খেলায় আজ একমাত্র সাক্ষী হয়ে রইল দামোদর ও অজয় নদী—যাদের বুক চিরেই জন্ম নিচ্ছে অপরাধের একের পর এক অধ্যায়। কয়লা চুরি ও বালি পাচার শিল্পাঞ্চলে নতুন কিছু নয়। তবে আধুনিক যুগে স্মাগলিংয়ের যে রূপ বদলেছে, তা প্রশাসন ও রাজনীতির ভূমিকা নিয়ে তুলছে গুরুতর প্রশ্ন।
গত কয়েক মাস ধরে ইডি ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সক্রিয় অভিযানের মধ্যেই প্রকাশ্যে চলছে বহু কোটি টাকার বালি সিন্ডিকেট। ইতিমধ্যেই বালি পাচার কাণ্ডে চার দফা ইডি অভিযান হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে কোটি কোটি টাকা, সোনা, নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ। গ্রেফতার হয়েছেন বালির বড় ব্যবসায়ী অরুণ সারাফ। কয়লা সিন্ডিকেটের KK-LB নেটওয়ার্ক এখন তদন্তের কেন্দ্রে।

🏗️ নদী নয়, যেন খনির গর্ত!
দামোদর ও অজয় নদীর উপর বালি মাফিয়াদের লোভী নজর এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে—
- নদীপথ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে
- গতিপথ বদলে যাচ্ছে
- গভীর গর্তে পরিণত হচ্ছে নদীর বুক
বিশেষজ্ঞদের মতে, এইভাবে অবাধ বালি উত্তোলন চলতে থাকলে ভবিষ্যতে নদীর গতিপথ বদলে মারাত্মক বন্যা ও ভূমিধস ঘটতে পারে। ক্ষতি হবে চাষজমি, বসতি ও পরিবেশের।
আগে যেখানে রাতের অন্ধকারে বালি তোলা হত, এখন সেখানে দিনের আলোয় শত শত ট্রাক বালি তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

🚨 হাই-টেক বালি চুরি, প্রশাসন অন্ধ?
সূত্রের দাবি—
- একটি ঘাটে অনুমতি থাকে দৈনিক ১০টি ট্রাক
- অথচ ওঠানো হচ্ছে ২০০টিরও বেশি ট্রাক বালি
- একই চালানে একাধিক গাড়ি
- ভুয়ো নম্বর প্লেট
- এক ঘাটের অনুমতিতে অন্য ঘাট থেকে বালি তোলা
- বর্ষাকালেও NGT-এর নির্দেশ অমান্য
সব মিলিয়ে পুরো চক্রটি চলছে হাই-টেক পদ্ধতিতে।

⚠️ ডামরায় হানা বিজেপি বিধায়িকা অগ্নিমিত্রা পালের
বৃহস্পতিবার সকালে আসানসোল দক্ষিণের বিধায়িকা অগ্নিমিত্রা পাল পৌঁছন ডামরার দামোদর ঘাটে। ঘটনাস্থলে তিনি দেখতে পান শতাধিক ট্রাক বালিতে বোঝাই। তিনি প্রশ্ন তোলেন—
“সব যদি বৈধ হয়, তবে বালি নামানো হচ্ছে কেন?”
চালকদের কেউ কেউ পালানোর চেষ্টা করেন। বিধায়িকা নিজেই একাধিক ট্রাকের চাবি কেড়ে পুলিশকে দেন। পুলিশ দাবি করে বালি এসেছে হিরাপুরের বৈধ ঘাট থেকে। কিন্তু চালান দেখাতে ব্যর্থ হয় পুলিশ।
📝 থানায় লিখিত অভিযোগ, বিক্ষোভ বিজেপির
অগ্নিমিত্রা পাল পাপ্পু ও বিবেক-সহ একাধিক বালি মাফিয়ার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আসানসোল নর্থ থানায়। থানার সামনে বিক্ষোভও দেখান বিজেপি কর্মীরা।
বিধায়িকার অভিযোগ—
- তৃণমূল, পুলিশ কমিশনারেট ও বালি মাফিয়ার গভীর যোগসাজশ রয়েছে
- আসানসোলের মানুষ বালি পাচ্ছে না
- এক ট্রাক্টর বালির দাম ৫ হাজার টাকা
- অথচ কলকাতা পাচার হচ্ছে দিনে দিনে শত শত ট্রাক
তিনি প্রশ্ন তোলেন স্থানীয় মন্ত্রী, মেয়র ও জেলা সভাপতির ভূমিকা নিয়েও।

🕯️ নদীর মৃত্যু মানেই মানুষের ভবিষ্যৎ বিপন্ন
এই অবাধ বালি লুটের ফলে সাম্প্রতিক বছরে অজয় ও দামোদরে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাও বেড়েছে উদ্বেগজনকভাবে। অথচ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন।
আজ প্রশ্ন একটা নয়—
✅ পুলিশ কি জানে না?
✅ জানার পরেও কি চুপ আছে?
✅ নাকি রাজনীতিই সব নিয়ন্ত্রণ করছে?
উত্তর একদিন দামোদর–অজয়ই দেবে।











