কলকাতা (আনন্দপুর):
পূর্ব কলকাতার আনন্দপুর থানার নাজিরাবাদ এলাকায় দুটি গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১ জনে। পুলিশের মতে, এখনও সরকারিভাবে প্রায় ২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এই ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে ডেকোরেটরস গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
🔥 পাশাপাশি দুটি গুদাম, দুটিই পুড়ে ছাই
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডেকোরেটরস গুদামের ঠিক পাশেই ছিল একটি মোমো প্রস্তুতকারক সংস্থার গুদাম, যা আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। এই ঘটনায় মোমো কোম্পানির মালিকদের বিরুদ্ধেও একই ধারায় মামলা রুজু হয়েছে, যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
⏰ রাত ৩টেয় আগুন, দু’দিন ধরে জ্বলেছে
রবিবার গভীর রাতে প্রায় ৩টা নাগাদ এই ভয়াবহ আগুন লাগে। সোমবার থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পুড়ে যাওয়া গুদাম চত্বরে একাধিক জায়গায় মানবদেহের অংশবিশেষ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে।
🧬 ডিএনএ পরীক্ষায় মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত হবে
ঘটনার সময় গুদামে কতজন মানুষ উপস্থিত ছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। দেহগুলি এতটাই পুড়ে গিয়েছে যে চোখে দেখে শনাক্ত করা সম্ভব নয়। ফলে মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য আদালতের অনুমতি চাওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
⚖️ দুটি আলাদা মামলা, তদন্ত জোরদার
দমকল বিভাগের অভিযোগের ভিত্তিতে নরেন্দ্রপুর থানায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একই ধারায় আরও একটি মামলা রুজু করেছে। এই দুই মামলার তদন্ত চলাকালীনই মঙ্গলবার রাতে গড়িয়া এলাকা থেকে গঙ্গাধর দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাঁকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে।
🗣️ অভিযুক্তের দাবি: “আমার দোষ নয়”
পুলিশি জেরায় গঙ্গাধর দাস নিজের গাফিলতির কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, আগুনের সূত্রপাত হয়েছে পাশের মোমো কারখানার অবহেলা থেকে, যার ফলে তাঁর বহু বছরের ব্যবসা ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে আগুনের প্রকৃত উৎস নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি।
🚒 ফায়ার সেফটি ছাড়াই চলছিল গুদাম!
মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে দমকল বিভাগের ডিজি রণবীর কুমার জানিয়েছেন, এই গুদামগুলির জন্য দমকল দপ্তরের কোনও অগ্নি-নিরাপত্তা ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। অনুমতি ছাড়াই গুদাম চালানোর বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। দমকল দপ্তরের তরফে বিভাগীয় গাফিলতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
🏙️ মেয়র ফিরহাদ হাকিমের প্রতিক্রিয়া
ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে কলকাতার মেয়র ও রাজ্যের নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, “কারও রুজি-রোজগার বন্ধ করে দেওয়াই সমাধান নয়, তাহলে আরও প্রশ্ন উঠবে।” যদিও স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এই গুদামগুলি জলাশয় ভরাট করে তৈরি করা হয়েছিল। এ বিষয়ে মন্ত্রী জানান, তিনি এই তথ্য জানেন না এবং বর্তমানে নতুন কোনও জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে না।
🔎 একের পর এক প্রশ্ন, নজরে প্রশাসনিক ব্যর্থতা
এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড আবারও প্রশ্ন তুলে দিল অবৈধ গুদাম, অগ্নি-নিরাপত্তার অভাব এবং প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতি নিয়ে। তদন্ত যত এগোবে, ততই সামনে আসতে পারে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য—এমনটাই মনে করছেন প্রশাসনিক মহল।











