আসানসোলের কুলটির নিয়ামতপুরের ইস্কো বাইপাস মোড়ে ড. বি. আর. আম্বেদকরের মূর্তি স্থাপনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা। মূর্তি স্থাপনের আগে শিলান্যাস কর্মসূচি ঘিরে বুধবার তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার পর এবার দুই রাজনৈতিক শিবিরের ST, SC এবং OBC সমাজের মধ্যেও স্পষ্ট বিভাজনের ছবি সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার প্রায় ২০০ জন কর্মী ও সমর্থক নিজ নিজ সমাজের পতাকা হাতে ঘটনাস্থলে জড়ো হন। প্রথমে তৃণমূল কংগ্রেসের ST, SC, OBC এবং বাউরি সমাজের সমর্থকরা ঐতিহ্য মেনে নারকেল ফাটিয়ে ভূমিপুজো করেন এবং প্রতিমা স্থাপনের উদ্যোগের দাবি জানান।
এর প্রায় এক ঘণ্টা পরে একই স্থানে ভারতীয় জনতা পার্টির ST, SC, OBC এবং হরিজন সমাজের সমর্থকরাও উপস্থিত হয়ে পৃথকভাবে ভূমিপুজো সম্পন্ন করেন। একই জায়গায় দুই পক্ষের আলাদা ভূমিপুজো হওয়ায় এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
এলাকাবাসীর একাংশের মতে, ড. বি. আর. আম্বেদকর সামাজিক ন্যায় ও সংবিধানের প্রতীক হলেও তাঁর মূর্তি স্থাপনকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা পরিস্থিতিকে সংবেদনশীল করে তুলেছে। স্থানীয় সমাজের মধ্যেও মতপার্থক্য বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দুই পক্ষের বড় জমায়েতের কারণে নিয়ামতপুর ও কুলটি এলাকায় টানটান উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। তবে মুখোমুখি সংঘর্ষের আগেই পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে উভয় পক্ষকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়, ফলে বড় ধরনের অশান্তি এড়ানো সম্ভব হয়।
প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত, আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনী আবহের মধ্যেই প্রতীকী বিষয়গুলি ঘিরে রাজনৈতিক সক্রিয়তা বেড়েছে। আম্বেদকর মূর্তি স্থাপন ইস্যু এখন শুধু একটি সামাজিক উদ্যোগ নয়, বরং রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
বর্তমানে গোটা বিষয়টির উপর প্রশাসনের কড়া নজর রয়েছে এবং এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য পুলিশ টহল বাড়ানো হয়েছে।














