পশ্চিম বর্ধমান | দুর্গাপুর
জয়দেব মেলার ঠিক আগে অজয় নদীর উপর অস্থায়ী সেতু নির্মাণের অনুমতি না মেলায় চরম ক্ষোভে ফেটে পড়লেন কাঁকসার বিদবিহার এলাকার বাসিন্দারা। বিদবিহার থেকে জয়দেব কেন্দুলি যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী রাস্তার উপর অবস্থিত তথাকথিত ‘জয়দেব সেতু’ অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভে সামিল হয় বিজেপি ও স্থানীয় মানুষজন।
সোমবার এই অবরোধের জেরে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায় ওই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। জয়দেব মেলার আগে এমন অবরোধে ব্যাপক যানজট ও ভোগান্তির মুখে পড়েন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি শুরু হয়, যার ফলে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, প্রশাসন আগেই অজয় নদীর উপর অস্থায়ী সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই অনুমতি বাতিল করে দেওয়ায় মানুষের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের একাংশ স্লোগান দিতে থাকেন—
👉 “গোলসির বিধায়ক নেপাল ঘড়ুই কোথায়? মানুষ বিপদে পড়লে তিনি নিখোঁজ!”
বিজেপি নেতা জয়দীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,
“প্রশাসন কথা দিয়েও শেষ মুহূর্তে অস্থায়ী সেতুর অনুমতি বাতিল করেছে। তার প্রতিবাদেই এই অবরোধ। মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার এখন কোথায়? নেপাল ঘড়ুই কোথায়? যতদিন না অস্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে, ততদিন ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চলবে।”
অন্যদিকে, বিদবিহার গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য স্বপন সূত্রধর বলেন,
“আন্দোলন করা সকলের গণতান্ত্রিক অধিকার। আমরাও শেষ খবর অনুযায়ী জানতে পেরেছি যে অজয়ের উপর অস্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ এখনও শুরু হচ্ছে না। সেই কারণেই মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এই ক্ষোভের আঁচ পঞ্চায়েতেও পড়তে পারে। আমরাও চাইছি, দ্রুত অস্থায়ী সেতু নির্মাণ হোক।”
জয়দেব মেলার আগে অজয় নদীর উপর অস্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় তীর্থযাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত নিয়ে বড়সড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। তবে দ্রুত সমাধান না হলে আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।











