পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের নুপুর এলাকায় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। বৃহস্পতিবার জনসংযোগ কর্মসূচির সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। তবে তাঁর অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সিদান মণ্ডল।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তালা দেখে প্রশ্ন
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার দুপুর প্রায় ১২টা ৪০ মিনিট নাগাদ বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল নুপুরের ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছালে দেখেন গেটে তালা ঝুলছে। এরপরই তিনি রাজ্য সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ১২ মার্চ কোনও জাতীয় বা রাজ্য সরকারি ছুটি নয়, তাহলে কেন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ থাকবে? তাঁর মতে, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয়।
তিনি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায়ই দাবি করেন যে পশ্চিমবঙ্গ সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যদি স্বাস্থ্য পরিষেবার এই অবস্থা হয়, তাহলে সেই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।
সাধারণ মানুষের চিকিৎসা কোথায়?
বিধায়ক প্রশ্ন তোলেন, যদি একটি সাধারণ কর্মদিবসে স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ থাকে, তাহলে শিশু, মহিলা ও বয়স্ক মানুষদের চিকিৎসার জন্য কোথায় যেতে হবে। তাঁর অভিযোগ, গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রতি রাজ্য সরকারের যথেষ্ট গুরুত্ব নেই।
এছাড়াও তিনি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ভবিষ্যতে যদি পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি সরকার গঠন করে, তাহলে স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে।
পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের পাল্টা দাবি
এদিকে বিধায়কের এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সিদান মণ্ডল। তিনি বলেন, অগ্নিমিত্রা পাল চার বছরেরও বেশি সময় ধরে বিধায়ক হলেও এতদিন এলাকায় আসার সময় পাননি। এখন নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই তিনি রাজনৈতিক প্রচারের জন্য এই বিষয়টি তুলে ধরছেন।
সিদান মণ্ডলের দাবি, বৃহস্পতিবার নুপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিষেবা একটি স্থানীয় ক্লাবে আয়োজিত স্বাস্থ্য শিবিরের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছিল। সেই কারণেই স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভবনে তালা লাগানো ছিল।
নিয়মিতই খোলা থাকে স্বাস্থ্যকেন্দ্র
তিনি জানান, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র নিয়মিত খোলা থাকে এবং কেবলমাত্র রবিবার বন্ধ থাকে। প্রতিদিন চিকিৎসাকর্মীরা উপস্থিত থাকেন এবং এলাকার মানুষদের চিকিৎসা পরিষেবা দেন।
সিদান মণ্ডলের অভিযোগ, বিধায়ক বিষয়টিকে রাজনৈতিক লাভের জন্য বাড়িয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন, যদিও এলাকার মানুষ প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত।
এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসানসোল দক্ষিণ এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে আবারও শাসক দল এবং বিরোধী দলের মধ্যে দোষারোপের রাজনীতি শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, রাজনীতি যাই হোক না কেন, এলাকার মানুষের জন্য নিয়মিত ও উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।














