আসানসোল: নির্বাচনের আগে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে আসানসোল জেলা বিজেপি বড় সাংগঠনিক রদবদলের পথে হাঁটল। সেই ধারাবাহিকতায় জেলা যুব মোর্চার সভাপতি পদে নির্বাচিত হলেন অভিক কুমার মণ্ডল। দলীয় সূত্রের দাবি, এই সিদ্ধান্তে জেলার যুব সমাজের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও শক্তির সঞ্চার হয়েছে।
সংগঠন মজবুত করতেই বড় সিদ্ধান্ত
রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে বুথস্তর থেকে সংগঠনকে সক্রিয় ও সুসংহত করতে বিজেপি বিভিন্ন শাখা সংগঠনে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তারই অংশ হিসেবে যুব মোর্চার নেতৃত্বে এই পরিবর্তনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দলীয় নেতাদের একাংশের বক্তব্য, যুব নেতৃত্বকে সামনে এনে মাঠপর্যায়ে সংগঠনকে আরও গতিশীল করাই মূল লক্ষ্য।
ঘোষণা হতেই কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস
নতুন যুব সভাপতির নাম ঘোষণার পর থেকেই আসানসোল জেলা যুব সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। কর্মীরা জানান, অভিক কুমার মণ্ডল শর্টকাটের পথ নয়, বরং দীর্ঘ সংগ্রাম, পরিশ্রম এবং সংগঠনের প্রতি নিষ্ঠার মাধ্যমে এই জায়গায় পৌঁছেছেন।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে দিন-রাত পরিশ্রম করে সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজ করেছেন এবং সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকেছেন।
গ্রামাঞ্চলেও সমর্থনের জোয়ার
স্থানীয় গ্রামবাসীদের মতে, বর্তমান রাজনীতিতে বিরোধীদের সামনে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর সাহস ও মানসিকতা খুবই বিরল। অন্যায়, দুর্নীতি এবং দমননীতির বিরুদ্ধে যুবকদের সঙ্গে নিয়ে যে লড়াই তিনি করছেন, তা প্রশংসনীয়।
তাঁদের বক্তব্য, এই পদ শুধুমাত্র একটি সাংগঠনিক দায়িত্ব নয়, বরং পরিবর্তন ও সংগ্রামের প্রতীক।
পশ্চিমবঙ্গের কম বয়সী যুব সভাপতিদের মধ্যে অন্যতম
দলীয় মহলে খবর, পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম কম বয়সী জেলা যুব সভাপতি হিসেবে আসানসোল সাংগঠনিক জেলা এই নতুন নেতৃত্ব পেয়েছে। রাণীগঞ্জ সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভবিষ্যতে তাঁকে আরও বড় দায়িত্বে দেখতে চান বলেও মত প্রকাশ করেছেন।
সভাপতির প্রথম প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক বার্তা
নবনিযুক্ত সভাপতি অভিক কুমার মণ্ডল বলেন, দল যে দায়িত্ব তাঁর উপর অর্পণ করেছে, তিনি তা নিষ্ঠার সঙ্গে সফলভাবে পালন করবেন। তিনি অভিযোগ করেন যে বর্তমান সরকার যুব সমাজকে হতাশ করেছে এবং যুবকদের বিজেপির আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও দাবি করেন, আগামী সময়ে যুব মোর্চা মানুষের সমস্যা ঘরে ঘরে পৌঁছে শুনবে এবং সংগঠনকে তৃণমূল স্তর থেকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক লড়াই আরও সরাসরি ও তীব্র হবে এবং যুব সমাজ সেই লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে আসানসোল
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিল্পাঞ্চল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ আসানসোলে যুব নেতৃত্বকে সামনে আনা বিজেপির দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে। নতুন সভাপতির নেতৃত্বে যুব মোর্চা যদি সংগঠনকে আরও সক্রিয় করে তুলতে পারে, তবে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, অভিক কুমার মণ্ডলের নেতৃত্বে আসানসোল জেলা বিজেপি যুব মোর্চা আগামী দিনে আরও শক্তিশালী, সংগঠিত এবং যুবমুখী ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।











