“চপ-ঘুগনি কি অপমান? কুলটির মেলায় ঘুগনি খেয়ে ‘শিল্প’ বললেন অভিজিৎ ঘটক”

single balaji

আসানসোল: রাজনীতির ময়দানে এখন চপ-ঘুগনি শুধুমাত্র খাবার নয়, বরং তা হয়ে উঠেছে ভোটের বড় ইস্যু। পেশাকে ঘিরে যখন রাজনৈতিক টানাপোড়েন তুঙ্গে, ঠিক তখনই কুলটির মিঠানি গ্রামের এক মেলায় দেখা গেল এক ভিন্ন চিত্র, যা ইতিমধ্যেই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে।

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অভিজিৎ ঘটক মেলায় উপস্থিত হয়ে শুধু ঘুগনি খেয়েই থেমে থাকেননি, বরং চপ-ঘুগনি-ফুচকা বিক্রির পেশাকে “একটি শিল্প” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সাধারণ মানুষের মনে আলাদা বার্তা দিয়েছেন।

পটভূমি: উপহাস বনাম স্বীকৃতির রাজনীতি

সম্প্রতি আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পল-কে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, প্রচারের সময় চপ ভেজে তিনি এই পেশাকে উপহাস করেছেন। বিরোধীদের দাবি, এতে দরিদ্র পরিশ্রমী মানুষের জীবিকার প্রতি অসম্মান দেখানো হয়েছে।

এই বিতর্কের মাঝেই কুলটির তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ ঘটক সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটলেন। তিনি সেই চপ-ঘুগনির পেশাকেই সম্মান দিয়ে রাজনৈতিক বার্তা দিলেন, যা নিয়ে এখন জোর চর্চা চলছে।

🎡 মিঠানি মেলায় প্রচারের কৌশল

শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণের জন্মোৎসব উপলক্ষে মিঠানি গ্রামে চলছে ২৪ প্রহর হরিনাম সংকীর্তন ও সাত দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই উপলক্ষে আয়োজিত গ্রামীণ মেলাকেই জনসংযোগের বড় মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করলেন অভিজিৎ ঘটক।

তিনি—

  • মেলার একের পর এক দোকানে ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন
  • মনিহারি, খেলনা ও খাবারের দোকানে যান
  • সাধারণ মানুষের সঙ্গে ছবি তোলেন ও সেলফি তোলেন
  • ঘুগনি খেয়ে ও কর্মীদের খাইয়ে সহজ-সরল ভাবমূর্তি তুলে ধরেন

উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি প্রচার চালিয়ে তিনি যেন প্রমাণ করলেন—“এক পন্থে দুই কাজ”

🍛 ঘুগনি: শুধু খাবার নয়, জীবিকার প্রতীক

মেলায় ঘুগনি খেতে খেতে অভিজিৎ ঘটক বলেন—
“চপ, ঘুগনি বা ফুচকা অনেক মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস। এই আয়ের উপর নির্ভর করেই বহু পরিবার চলে। তাই এই কাজকে সম্মান দেওয়া উচিত।”

তার এই বক্তব্য সরাসরি নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের হৃদয়ে পৌঁছানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

🗳️ ভোট রাজনীতিতে নতুন বার্তা

তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছানোর কৌশল গ্রহণ করে আসছে। কুলটির এই মেলায়ও তার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেল।

এখানে—

  • সাধারণ মানুষের আবেগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে
  • ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সম্মান জানানো হয়েছে
  • এবং তৃণমূল স্তরে ভোটের লড়াই আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা হয়েছে

🔍 বিশ্লেষণ: ভোটে কতটা প্রভাব ফেলবে?

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধরনের মানবিক ও আবেগঘন প্রচার সাধারণ মানুষের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। যেখানে একদিকে “উপহাস”-এর অভিযোগ, অন্যদিকে “সম্মান”-এর বার্তা—এই দুইয়ের লড়াইয়ে ভোটাররা কাকে বেছে নেবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

👉 সব মিলিয়ে বলা যায়, কুলটির এই মেলা শুধু উৎসব নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মঞ্চ—যেখানে চপ-ঘুগনি এখন শুধুই খাবার নয়, বরং সম্মান, জীবিকা ও রাজনীতির প্রতীক।

ghanty

Leave a comment