পশ্চিমবঙ্গ কি এবার নার্কো-টেররের নিশানায়? বর্ধমানের হামিম গ্রেফতারে চাঞ্চল্য

পশ্চিমবঙ্গ:
পশ্চিমবঙ্গে কি এবার পাক-সমর্থিত নার্কো-টেরর নেটওয়ার্কের ছায়া পড়ছে? বর্ধমান থেকে গ্রেফতার হওয়া হামিম মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এমনই আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে তদন্তকারী সংস্থাগুলির মধ্যে। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে।

🚨 “অত্যন্ত সংবেদনশীল” বললেন শুভেন্দু অধিকারী

এই প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন,
“এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। এতে আন্তর্জাতিক যোগ রয়েছে এবং এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। এসটিএফ তদন্ত চালাচ্ছে, এবং অভিযুক্তের মোবাইল ও অন্যান্য ডিভাইসের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

🌍 পাকিস্তানি গ্যাংস্টারের যোগ

তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—
👉 হামিম মণ্ডলের সরাসরি যোগাযোগ ছিল পাকিস্তানের কুখ্যাত গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি এবং তার সহযোগী আজমল গুজ্জর-এর সঙ্গে।
👉 অভিযোগ, এই চক্র মাদক ও অস্ত্র পাচারের মাধ্যমে অর্থ জোগাড় করে সন্ত্রাসমূলক কাজ চালায়।
👉 গোটা নেটওয়ার্কের পেছনে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর মদত থাকার আশঙ্কা।

📱 সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ

এসটিএফ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে হামিমের সঙ্গে এই চক্রের যোগাযোগ তৈরি হয়।
এই নেটওয়ার্কের কৌশল—

  • ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবে সক্রিয় ব্যবহারকারীদের চিহ্নিত করা
  • ভিডিও কল ও ব্যক্তিগত কথোপকথনের মাধ্যমে প্রলোভন দেখানো
  • অর্থ ও পরিচিতি পাওয়ার লোভে যুবকদের যুক্ত করা

💰 ‘হাইব্রিড মডিউল’ দিয়ে নিয়োগ

তদন্তে জানা গেছে—
👉 প্রথমে ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পাঠিয়ে বিশ্বাস অর্জন
👉 তারপর ধীরে ধীরে মাদক ও অস্ত্র পাচারে যুক্ত করা
👉 অপরাধ জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া

🚁 ড্রোনে অস্ত্র, মাদকে টাকা

পাঞ্জাব সীমান্তে ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র ও মাদক ভারতে পাঠানো হতো বলে অভিযোগ।
এই মাদক বিক্রির অর্থই ব্যবহার করা হতো—
👉 নাশকতামূলক কাজের পরিকল্পনায়
👉 দেশে সক্রিয় মডিউলগুলিকে শক্তিশালী করতে

🕵️ হামিমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

তদন্তকারীদের মতে—
👉 হামিম হাওলা মারফত টাকা পেয়েছিল
👉 পশ্চিমবঙ্গে তাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল
👉 রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপর নজরদারির কাজও তার উপর ছিল

এমনকি কিছু নথি ও চ্যাট থেকে জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির উপর নজর রাখার চেষ্টাও করা হয়েছিল, যদিও তা কতটা সফল হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত নয়।

⚠️ ‘তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান’-এর নাম

যুবকদের প্রভাবিত করতে “তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান” নামের একটি সংগঠনের ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে যুবকদের সংগঠনে টানার চেষ্টা চলছিল।

📊 একাধিক রাজ্যে গ্রেফতার

গত সাত মাসে—
👉 দিল্লি, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, অসমসহ বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান
👉 প্রায় দুই ডজন যুবক গ্রেফতার
👉 অনেকের কাছ থেকে বিদেশি অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার

🔎 বাংলাও কি নতুন টার্গেট?

হামিম মণ্ডলের গ্রেফতারের পর তদন্তকারী সংস্থাগুলির আশঙ্কা—
👉 এই নেটওয়ার্ক এবার পশ্চিমবঙ্গেও সক্রিয়
👉 আরও অনেকে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে
👉 রাজ্যে বড় কোনও নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে

🗣️ উপসংহার

এই ঘটনা শুধু একটি গ্রেফতারি নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় সতর্কবার্তা
যদি এই সন্দেহ সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে স্পষ্ট—
👉 নার্কো-টেররের জাল ধীরে ধীরে নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে
👉 আর পশ্চিমবঙ্গ সেই জালের নতুন কেন্দ্র হতে পারে

Leave a comment