রাজ্যসভায় তৃণমূলের চতুর্থ ধাক্কা! পদত্যাগের পর ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক কোয়েল মল্লিকের

নয়াদিল্লি/কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতিতে ফের বড়সড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্যসভার সাংসদ কোয়েল মল্লিক আচমকাই নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন। তাঁর এই পদক্ষেপের পর থেকেই বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

🏛️ দিল্লিতে ইস্তফা ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

বৃহস্পতিবার সকালে কোয়েল মল্লিক দিল্লিতে পৌঁছে উপরাষ্ট্রপতি ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি.পি. রাধাকৃষ্ণন-এর হাতে নিজের পদত্যাগপত্র তুলে দেন। জানা গেছে, প্রথমে তিনি ইমেলের মাধ্যমে ইস্তফা পাঠালেও নিয়ম অনুযায়ী ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে তা জমা দিতে হয়।

ইস্তফা দেওয়ার পরই তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎ ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা—তবে কি তিনিও বিজেপির পথে হাঁটছেন?

🔄 তৃণমূলের ভাঙন আরও স্পষ্ট?

উল্লেখ্য, সম্প্রতি তৃণমূলের তিন সাংসদ—
সুখেন্দু শেখর রায়, সুশ্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক—দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বিজেপি তাদের রাজ্যসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী করে পুনরায় সংসদে পাঠিয়েছে।

ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে, কোয়েল মল্লিকও কি একই কৌশল অনুসরণ করবেন?

📅 সংসদে না গিয়েই পদত্যাগ

ফেব্রুয়ারিতে রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার পর থেকে কোয়েল মল্লিক একবারও সংসদের কোনও অধিবেশনে যোগ দেননি। আগামী সোমবার থেকে শুরু হতে চলা বর্ষাকালীন অধিবেশনই হতে পারত তাঁর প্রথম উপস্থিতি, কিন্তু তার আগেই পদত্যাগ করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি।

🤝 দিল্লিতে গোপন বৈঠকের ইঙ্গিত

সূত্রের খবর, জুন মাসে দিল্লিতে ভূপেন্দ্র যাদব-এর বাসভবনে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের একাধিক বৈঠক হয়েছিল। এই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে ছিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। পরে তারা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা-র সঙ্গে দেখা করে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান বদলের ইঙ্গিত দেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমস্ত সমীকরণের নেপথ্যে ভূপেন্দ্র যাদবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই কোয়েল মল্লিকের সঙ্গে তাঁর বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

🎭 শপথ থেকে পদত্যাগ—কেন এই পরিবর্তন?

গত এপ্রিল মাসে দিল্লিতে শপথ গ্রহণের সময় কোয়েল মল্লিক বলেছিলেন, দেশ ও মানুষের সেবা করা তাঁর কাছে গর্বের বিষয়। সেই দায়িত্ব পাওয়াকে তিনি নিজের সৌভাগ্য বলেও উল্লেখ করেছিলেন।

কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সেই পদ ছেড়ে দেওয়ায় প্রশ্ন উঠছে—
👉 এটি কি শুধুই রাজনৈতিক কৌশল, নাকি বড় কোনও পরিবর্তনের সূচনা?

⚡ এখন নজর একটাই

বর্তমানে রাজনৈতিক মহলের সমস্ত নজর কোয়েল মল্লিকের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
👉 তিনি কি বিজেপিতে যোগ দেবেন, নাকি নতুন কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করবেন—উত্তরের অপেক্ষায় গোটা বাংলা।

Leave a comment