দলে ভাঙন, প্রতীক নিয়েও টানাপোড়েন! ইন্দিরার মতো ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন মমতা?

কলকাতা | বিশেষ প্রতিবেদন

বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কার পর তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর রাজনৈতিক অবস্থান ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। মুখ্যমন্ত্রীর পদ হারানোর পাশাপাশি দলের অন্দরেও বাড়ছে অসন্তোষ। এমন পরিস্থিতিতে দল ভাঙনের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

দলের ভেতরে বাড়ছে অসন্তোষ

দলীয় সূত্রের খবর, তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক প্রবীণ নেতা ও জনপ্রতিনিধি ধীরে ধীরে নেতৃত্ব থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন। যাদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন ও সরকারের দায়িত্ব ছিল, তাদের মধ্যেই এখন মতভেদ স্পষ্ট। অনেকেই নতুন নেতৃত্ব বা বিকল্প ব্যবস্থার পক্ষে মত দিচ্ছেন।

সংগঠন দুর্বল, স্থানীয় স্তরে ধাক্কা

জেলা ও পঞ্চায়েত স্তরে দলের প্রভাব কমতে শুরু করেছে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের একাংশের। একাধিক পদাধিকারী ইতিমধ্যেই দল ছেড়েছেন বা অন্য দলে যোগ দিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। ফলে সংগঠনের ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়ছে।

প্রতীক ও সম্পত্তি নিয়ে বিতর্ক

দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দ্বন্দ্ব সামনে এসেছে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনে দলীয় প্রতীক নিয়ে দাবি জানানো হতে পারে—এমন জল্পনাও রাজনৈতিক মহলে ঘুরছে। যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ইন্দিরা গান্ধীর উদাহরণ সামনে

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৭ সালের পরাজয়ের পর ইন্দিরা গান্ধী-কেও একই ধরনের বিদ্রোহের মুখে পড়তে হয়েছিল। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন করেন। এখন প্রশ্ন উঠছে—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করতে পারবেন?

দুর্নীতির অভিযোগে চাপ

তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের মুখে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে নানা ইস্যুতে দলের একাধিক নেতার নাম উঠে এসেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, অনেক নেতার সম্পত্তি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে কোনও প্রমাণিত অভিযোগ নেই, তবুও তার ঘনিষ্ঠ মহল ও পরিবারের সদস্যদের সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বারবার।

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন ঐক্য

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ কমানো এবং মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করা।

আগামী দিনে তার রাজনৈতিক কৌশলই নির্ধারণ করবে—তিনি কি ইন্দিরা গান্ধীর মতো ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন, নাকি এই সংকটই তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের মোড় ঘুরিয়ে দেবে।

Leave a comment