হাওড়া: হাওড়ার বাগনানে নিহত বিজেপি কর্মী প্রশান্ত দে-র পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি মৃতের বাড়িতে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাদের ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করে কড়া ভাষায় পুলিশকে নির্দেশ দেন—অভিযুক্তরা “পাতালেও লুকিয়ে থাকলেও” তাদের গ্রেফতার করতেই হবে।
এই বহুচর্চিত খুনের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এফআইআরে মোট ৫১ জনের নাম রয়েছে। বাকি ৪১ জন পলাতক অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনের উপর চাপ বাড়ান।

সিআইডির তদন্তে গতি, থানায় বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর
প্রশান্ত দে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ইতিমধ্যেই সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ২১ জুন থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। বাগনানে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে মৃতের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন, তারপর থানায় গিয়ে পুলিশ ও সিআইডি আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি দ্রুত চার্জশিট দাখিল এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরিবারের জন্য বড় ঘোষণা
মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন—
- মোট ৯ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা (আগে ৪ লক্ষ + নতুন ৫ লক্ষ)
- প্রশান্ত দে-র বড় মেয়ের জন্য বিডিও অফিসে চুক্তিভিত্তিক চাকরি
- বৃদ্ধ বাবা-মায়ের জন্য বার্ধক্য ভাতা
তিনি বলেন, “জীবনের ক্ষতি পূরণ করা যায় না, কিন্তু পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব।”
ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট
জানা গেছে, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল। ১৮ জুন আণ্টিলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শেখ মফিজুল ইসলাম এলাকায় ফিরলে বিজেপি কর্মীরা তার বাড়ির সামনে জড়ো হন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।
অভিযোগ, মফিজুল ইসলাম ও তার সমর্থকরা মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে বহু মানুষ গুরুতর জখম হন এবং হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা প্রশান্ত দে-কে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসাধীন আহতরা, নজরে প্রশাসন
ঘটনায় আহত বেশ কয়েকজন এখনও কলকাতার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের চিকিৎসা রাজ্য সরকারের বিশেষ তত্ত্বাবধানে চলছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এলাকায় উত্তেজনা, বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাগনান এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তুঙ্গে, এবং দ্রুত বিচার ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি উঠছে। রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন—এই ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড়া হবে না এবং আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।


