বিধায়কের বাড়ির সামনে ‘কয়লা চক্র’! সরকারের জিরো টলারেন্সে বড় প্রশ্ন

single balaji

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বারবার ঘোষণা করা হয়েছে। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা তুলে ধরে প্রশাসন দাবি করেছে, সিন্ডিকেট রাজ ভেঙে ফেলা হবে এবং অবৈধ কারবারিদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু বারাবনি বিধানসভা এলাকা থেকে সামনে আসা একটি ছবি এই সমস্ত দাবিকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

এই চাঞ্চল্যকর ছবি বারাবনির নুনি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হল, এই এলাকাতেই বর্তমান বিধায়ক অরিজিৎ রায়ের বাসভবন অবস্থিত। ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, একাধিক সাইকেল ও ছোট গাড়িতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কয়লা বোঝাই করে খোলামেলাভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যেখানে প্রতিদিন এই কয়লা জমা হয় বা সেখান থেকে পরিবহণ করা হয়, তার অদূরেই রয়েছে বিধায়কের বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়।

প্রতিদিন এই পথেই যাতায়াত, তবু নীরবতা কেন?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখানেই—এটি কোনও দুর্গম এলাকা নয়, বরং প্রধান রাস্তা, যেখান দিয়ে প্রতিদিনই বিধায়ক অরিজিৎ রায় এবং প্রশাসনিক আধিকারিকরা যাতায়াত করেন। তাহলে কি করে তাঁদের চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে এই প্রকাশ্য অবৈধ কয়লার কারবার? নাকি সবকিছু জেনেও কোনও কারণে চোখ বুজে রয়েছেন তাঁরা?

‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তব চিত্র

সরকার যেখানে বড় বড় অভিযানের কথা বলছে, সেখানে এই ছবি প্রমাণ করছে যে তৃণমূল স্তরে অবৈধ ব্যবসা এখনও বহাল তবিয়তে চলছে। সাইকেলে করে কয়লা পরিবহণের এই দৃশ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে—ছোট ছোট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই কালোবাজারি অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অবৈধ কয়লা ব্যবসা চালাতে গেলে স্থানীয় স্তরে প্রভাবশালী চক্রের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়। ফলে এই ঘটনা প্রশাসনিক ব্যবস্থার উপরও প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

WhatsApp Image 2026 05 31 at 16.13.03

বিরোধীদের তোপ

এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। বিরোধীরা সরব হয়ে বলেছে, সরকারের ‘অবৈধ ব্যবসা রুখে দেওয়ার’ দাবি আসলে কাগুজে। শাসক দলের বিধায়কের বাড়ির কাছেই যখন প্রকাশ্যে এই ধরনের কাজ হচ্ছে, তখন গোটা রাজ্যের পরিস্থিতি সহজেই অনুমান করা যায়।

যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ

এই বিষয়ে বারাবনির বিধায়ক অরিজিৎ রায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি। ফলে তাঁর অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা আরও বেড়েছে।

অন্যদিকে প্রাক্তন বিধায়ক তথা মেয়র বিধান উপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, “সবই শুধু কথার কথা। কখন এই অবৈধ কাজ বন্ধ হয় আর কখন শুরু হয়, তা বোঝাই যায় না।”

প্রশাসন কি নড়ে উঠবে?

এখন বড় প্রশ্ন—এই ঘটনা সামনে আসার পর প্রশাসন কি কোনও কড়া পদক্ষেপ নেবে? নাকি আগের মতোই বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যাবে? ‘সত্তার ছত্রছায়ায়’ কি এই অবৈধ কয়লার কারবার চলতেই থাকবে?

বারাবনির এই ছবি শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়, বরং গোটা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে। এখন নজর সবার—প্রশাসন কি পদক্ষেপ নেয়, নাকি এই কালো ব্যবসা আগের মতোই চলতে থাকে।

ezgif 22b6a523914e707e 300x300 1
ghanty

Leave a comment