আসানসোল/সালানপুর: নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেই দলবদলের হিড়িক—আর সেই প্রেক্ষাপটে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সরগরম আসানসোল-সালানপুর এলাকা। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা বিজয় সিংকে প্রকাশ্যে সবুজ আবির মেখে তাড়িয়ে দিলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ রায়। ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, দেনদুয়া-কল্যাণেশ্বরী এলাকার তৃণমূল নেতা বিজয় সিং, যিনি মাইথন লেফ্ট ব্যাঙ্ক অঞ্চলে দলের এক পরিচিত মুখ, তিনি বুধবার বিজেপি নেতা অভিজিৎ রায়ের সঙ্গে দেখা করতে যান। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করায় নিজের অবস্থান সুরক্ষিত করতে তিনি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে সূত্রের খবর।
কিন্তু সেখানে গিয়ে ঘটে সম্পূর্ণ উল্টো ঘটনা। বিজেপি নেতা অভিজিৎ রায় সবার সামনে বিজয় সিংয়ের গায়ে তৃণমূলের প্রতীক ‘সবুজ আবির’ মেখে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন—এই ধরনের সুযোগসন্ধানী নেতাদের জন্য বিজেপিতে কোনও জায়গা নেই। এরপর তাঁকে সেখান থেকে কার্যত বের করে দেওয়া হয়।

অভিজিৎ রায় বলেন, “শুধু গেরুয়া রঙ মেখে বা গামছা পরে নিলেই কেউ বিজেপির কর্মী বা নেতা হয়ে যায় না। আদর্শ, ত্যাগ এবং মানুষের বিশ্বাস ছাড়া দলবদলের এই ‘রঙ বদলের খেলা’ আর চলবে না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজয় সিং আসলে ‘তোলাবাজ’ হিসেবে পরিচিত এবং দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বিশেষ করে মাইথন ড্যামের পিকনিক স্পটে আসা পর্যটকদের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, দাদাগিরি এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে বলে দাবি করেন বিজেপি নেতা। তিনি স্পষ্ট জানান, এই ধরনের বিতর্কিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের দলে নিয়ে বিজেপি নিজেদের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে না।
ঘটনার পর দেনদুয়া ও আশেপাশের এলাকায় বিজেপির পুরনো ও নিবেদিত কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তাঁদের মতে, দল একটি শক্ত বার্তা দিয়েছে—নীতিহীন দলবদল নয়, আদর্শই শেষ কথা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত অপমান নয়, বরং ভোট-পরবর্তী রাজনীতিতে ‘দলবদল সংস্কৃতি’র বিরুদ্ধে একটি বড় বার্তা। এখন দেখার বিষয়, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনায় রাজনৈতিক দলগুলির অবস্থান কতটা কঠোর হয়।
এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে এবং ভিডিও ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।















