আসানসোল: আসানসোল নগরনিগমের রাজনীতিতে বুধবার এক বড়সড় চমক দেখা গেল। নগরনিগমের বোরো নম্বর-৬ এর চেয়ারম্যান ডাঃ দেবাশীষ সরকার আচমকাই তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। তিনি তাঁর ইস্তফাপত্র পুরনিগমের কমিশনারের দপ্তরে জমা দেন। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
ইস্তফার পর ডাঃ দেবাশীষ সরকার স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি শুধুমাত্র বোরো চেয়ারম্যান পদ থেকেই সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কোনও ইচ্ছা তাঁর নেই। তিনি আগের মতোই নিজের ওয়ার্ডের মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানান।
তাঁর এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পিছনে একাধিক কারণ তুলে ধরেছেন তিনি। ডাঃ সরকার বলেন, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। সাধারণ মানুষের ভাবনা ও প্রত্যাশাও বদলাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বোरो চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে থাকা তাঁর কাছে আর উপযুক্ত মনে হয়নি।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন তাঁর দায়িত্বকালে বোরো অফিসে দুর্নীতি এবং একাধিক অনিয়মের ঘটনা। তাঁর দাবি, অফিসের কাজকর্ম নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও অসঙ্গতির তথ্য সামনে এসেছে, যা তাঁকে গভীরভাবে বিচলিত করেছে। এই প্রেক্ষিতেই তিনি নৈতিক দায়িত্ব স্বীকার করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
এই ইস্তফার পর আসানসোল নগরনিগমের ভিতরে এবং বাইরের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষেই এই ঘটনাকে ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে। অনেকের মতে, এই পদত্যাগ ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।
এখন সবার নজর রয়েছে নগরনিগম প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। কবে বোরো-৬ এর নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হবে এবং এই ইস্যুতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব কী অবস্থান নেয়, তা নিয়েই জল্পনা চলছে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—ডাঃ দেবাশীষ সরকার তাঁর পদ ছেড়ে দিয়ে এক বড় বার্তা দিয়েছেন। তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে, জনজবাবদিহি এবং নৈতিকতার প্রশ্নে আপস না করাই একজন জনপ্রতিনিধির প্রকৃত দায়িত্ব। এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনার প্রভাব আসানসোলের রাজনীতিতে কতদূর গড়ায়।















