মমতার বাড়ির পাশেই সিআইডি হানা! তৃণমূল অফিসে ২ ঘণ্টার তল্লাশি ঘিরে তীব্র উত্তেজনা

single balaji

কলকাতার কালীঘাটে মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়, যখন তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিআইডি-র একটি দল তল্লাশি চালাতে পৌঁছয়। এই কার্যালয়টি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের একেবারে পাশেই অবস্থিত হওয়ায় ঘটনাটি দ্রুতই রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়ে যায়।

সূত্রের খবর, সই জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তে এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সিআইডি-র সঙ্গে ছিল রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও, ফলে গোটা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

তবে শুরুতেই সিআইডি-কে অফিসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ ও কোষাধ্যক্ষ শুভাশিস চক্রবর্তী জানিয়ে দেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে রয়েছেন, তাঁদের অনুপস্থিতিতে তিনি কোনওভাবেই তল্লাশির অনুমতি দিতে পারবেন না। এই নিয়ে সিআইডি আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সময় ধরে বচসা চলে।

সিআইডি-র দাবি ছিল, তাদের কাছে বৈধ নোটিস রয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে তল্লাশি চালানো অত্যন্ত জরুরি। অবশেষে বিকেল প্রায় ৪টার পর অফিসে প্রবেশের অনুমতি মেলে এবং শুরু হয় তল্লাশি অভিযান, যা প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে চলে।

উল্লেখ্য, এই সই জালিয়াতি মামলায় তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন। অভিযোগ, বিধানসভার স্পিকারের কাছে পাঠানো একটি প্রস্তাবিত চিঠিতে কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের সই জাল করা হয়েছিল। যে বৈঠকে এই সই নেওয়া হয়েছিল, সেটি এই কালীঘাট কার্যালয়েই অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে জানা গেছে।

তদন্তকারী সংস্থার লক্ষ্য ছিল, সেই বৈঠকে কী ঘটেছিল, কারা উপস্থিত ছিলেন এবং কারা সই করেছিলেন—এই সব তথ্য খতিয়ে দেখা। এই কারণে অফিসের সিসিটিভি ফুটেজও চাওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

WhatsApp Image 2026 05 31 at 16.13.03

সিআইডি-র উপস্থিতির সময় তৃণমূল সাংসদ কুণাল ঘোষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জানান, তাঁদের দল আগেও তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তাঁর বাড়ির পাশের কার্যালয়ে তল্লাশি চালানোকে তিনি অনুচিত বলে মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালানোর পর সিআইডি দলটি অফিস ছেড়ে বেরিয়ে যায়। এরপর শুভাশিস চক্রবর্তী দাবি করেন, এই অভিযানে কোনও নথি বা সামগ্রী জব্দ করা হয়নি।

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে তদন্তের নামে কড়া পদক্ষেপ, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ—সব মিলিয়ে আগামী দিনে এই ইস্যু আরও বড় আকার নিতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ezgif 22b6a523914e707e 300x300 1
ghanty

Leave a comment