আসানসোল : আসানসোল পুরসভার রাজনীতিতে বর্তমানে তীব্র অস্থিরতা ও চাঞ্চল্যের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলনেত্রী চৈতালি তিওয়ারির ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তা শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের উপর চাপ বাড়িয়ে তুলছে। এর ফলে পুরসভার অভ্যন্তরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ইতিমধ্যেই ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তরুণ চক্রবর্তীর গ্রেফতারের ঘটনায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। সেই উত্তাপের মধ্যেই এবার ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় নোনিয়া নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

সঞ্জয় নোনিয়ার এই পদত্যাগকে কেন্দ্র করে পুরসভার রাজনৈতিক মহলে নানান আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও কয়েকজন কাউন্সিলর নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন। ফলে আগামী দিনে আরও পদত্যাগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিরোধীদের অভিযোগ, জনস্বার্থের নানা ইস্যু বারবার তুলে ধরা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা বাড়ানোর ফলে শাসকদলের অনেক জনপ্রতিনিধি চাপে পড়ছেন। তাদের মতে, এই চাপই ধীরে ধীরে শাসকদলের ভিতরে অস্থিরতা তৈরি করছে।
অন্যদিকে, গোটা ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, যা এই জল্পনাকে আরও উসকে দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই পদত্যাগের ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে আসানসোল পুরসভার রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এবং নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। বিরোধী দলও এই পরিস্থিতিকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে আসানসোলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, সেদিকেই এখন সবার নজর।















