আসানসোল: আসানসোলের কুলটি স্টেশনের কাছে চাঞ্চল্যকর ঘটনা—চলন্ত ১২৩১৩ আপ শিয়ালদহ–নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেসে পাথর ছোঁড়ার অভিযোগে এক নাবালককে আটক করেছে বারাকার আরপিএফ পোস্ট। এই ঘটনায় ট্রেনের একটি কোচের জানলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
রেল সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ) সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় ভারতীয় রেল আইন, ১৯৮৯-এর ধারা ১৫৩ অনুযায়ী মামলা নম্বর ২৯২/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। এই আইনে চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোঁড়া একটি গুরুতর অপরাধ, যার জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
তদন্তে উঠে এসেছে, বালটোরিয়া গ্রামের কাছে রেললাইনের ধারে পাঁচজন নাবালক উপস্থিত ছিল। অভিযোগ, সেই সময় দিয়ে যাওয়া রাজধানী এক্সপ্রেসকে লক্ষ্য করে তাদের মধ্যে একজন পাথর ছুঁড়ে মারে। এই অবিবেচক আচরণ শুধু রেল সম্পত্তির ক্ষতি করেনি, বরং শতাধিক যাত্রীর জীবনের ঝুঁকি তৈরি করেছিল।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ৬ জুন ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট সব নাবালক ও তাদের অভিভাবকদের বারাকার আরপিএফ পোস্টে ডাকা হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর অভিযুক্ত নাবালককে আসানসোলের কিশোর বিচার বোর্ডের সামনে পেশ করা হয়েছে।
আরপিএফ আসানসোল ডিভিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের ঘটনা রুখতে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে সচেতনতা অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হয়েছে, তারা যেন শিশুদের রেললাইনের কাছ থেকে দূরে রাখেন, কারণ এই ধরনের ঘটনা যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
👉 উল্লেখ্য, অতীতে এমন একাধিক ঘটনার ফলে বড় দুর্ঘটনা ঘটার নজির রয়েছে। তাই প্রশাসনের তরফে কড়া নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও অভিভাবকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা ছাড়া এই সমস্যা পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব নয়।
👉 সব মিলিয়ে, এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—এক মুহূর্তের অসতর্কতা কত বড় বিপদের কারণ হতে পারে। এখনই সতর্ক হওয়া জরুরি।
















