জামুড়িয়া: ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)-এর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার নোটিস ঘিরে শুক্রবার জামুড়িয়ার কুনুস্তোরিয়া এলাকায় তীব্র জনরোষের সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর ধরে ইসিএলের বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল স্থানীয় বাসিন্দারা আচমকা এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমে আসেন এবং ইসিএলের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) অফিস ঘেরাও করে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান।
সকাল থেকেই শত শত নারী-পুরুষ জিএম অফিসের সামনে জড়ো হতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে আশঙ্কায় জামুড়িয়া থানার অন্তর্গত কেন্দা ফাঁড়ির পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী (CISF)-এর জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি ইসিএল কর্তৃপক্ষ একটি নোটিস জারি করে জানিয়েছে যে তাদের এলাকায় কোম্পানির দেওয়া বিদ্যুৎ পরিষেবা ধাপে ধাপে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
বাসিন্দাদের বক্তব্য, বহু বছর ধরে এই বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উপর নির্ভর করেই তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন চলছে। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করেই হঠাৎ করে বিদ্যুৎ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অন্যায় ও জনবিরোধী।

এদিনের বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা সুনীল নোনিয়া, রাকেশ গিরি, অরুণ কুমার প্রসাদ, সীমা সিং, অজিত রাম, উত্তম বাউরি সহ বহু সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বিজেপি নেতা অরুণ কুমার প্রসাদ অভিযোগ করেন, “এলাকার গরিব ও সাধারণ মানুষদের টার্গেট করা হচ্ছে। যেখানে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এখনও ইসিএল কোয়ার্টারে বসবাস করছেন এবং বহু বেসরকারি শিল্প সংস্থার বিরুদ্ধে ইসিএল জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে, সেখানে সাধারণ মানুষের উপরেই চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।”
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিজেপি মহিলা মোর্চার নেত্রী সীমা সিং জানান, “কুনুস্তোরিয়া এলাকায় প্রায় এক হাজার মানুষ বসবাস করেন এবং তাদের জীবনযাত্রা বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল। কোনো বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া বিদ্যুৎ কেটে দেওয়া হলে তা সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত হবে।”
পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ইসিএল কর্তৃপক্ষের আলোচনা হয়। সেই বৈঠকে আপাতত কোনো গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা এখনও কাটেনি।
বিক্ষোভ চলাকালীন স্লোগান, ধর্না ও প্রতিবাদের মাধ্যমে মানুষ তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। উল্লেখযোগ্য বিষয়, পুরো ঘটনায় ইসিএলের কোনো শীর্ষ আধিকারিক এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি, যার ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের নোটিস নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
যদিও কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে আপাতত বিক্ষোভ স্থগিত করা হয়েছে, তবুও কুনুস্তোরিয়া এলাকার হাজারো মানুষের মনে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা এখনও তীব্র আকারে বিরাজ করছে।















