পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের বর্ণপুর এলাকায় বুধবার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকল সাধারণ মানুষ। চুরির অভিযোগে গ্রেফতার দুই যুবককে আদালতে তোলার আগে দড়ি বেঁধে বাজার এলাকায় ঘোরায় হিরাপুর থানার পুলিশ, যা ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইসমাইল ষষ্ঠী নগর এলাকা থেকে স্বয়ন ও মহম্মদ আদন নামে দুই যুবককে চুরির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাঁদের কোমরে দড়ি বেঁধে হিরাপুর থানা থেকে বর্ণপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়।
এই সময় বাজারে উপস্থিত বহু মানুষ এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন। মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় ভিড় জমে যায় এবং ঘটনাটি নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। কেউ পুলিশের এই পদক্ষেপকে অপরাধ দমনে কড়া বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকেই এই ধরনের প্রকাশ্য আচরণকে মানবাধিকারের প্রশ্নের সঙ্গে জড়িয়ে দেখছেন।

পুলিশের দাবি, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে অপরাধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং ভবিষ্যতে অন্যদের এ ধরনের অপরাধ থেকে বিরত রাখা। তাঁদের মতে, প্রকাশ্যে এই ধরনের পদক্ষেপ নিলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হবে।
অন্যদিকে, স্থানীয় কিছু সমাজকর্মী ও নাগরিকদের একাংশ এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা আদালতের, তাই এভাবে প্রকাশ্যে ঘোরানো কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে বিতর্ক থাকা স্বাভাবিক।
পরবর্তীতে দুই অভিযুক্তকে আসানসোল জেলা আদালতে তোলা হয় এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন আসানসোল জুড়ে চলছে তুমুল আলোচনা—এটি কি সত্যিই অপরাধ রোধের কার্যকর উপায়, নাকি আইনের সীমা লঙ্ঘনের একটি উদাহরণ? সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠছে।















