দিল্লির মালব্য নগরে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হোটেল অগ্নিকাণ্ডে ২১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ‘ফ্লরিশ স্টে’ নামের একটি হোটেলে এই ভয়াবহ আগুন লাগে, যেখানে প্রাথমিক তদন্তেই উঠে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
জানা গেছে, হোটেল ভবনটি নির্মাণের সময় থেকেই নিয়মের গুরুতর লঙ্ঘন করা হয়েছিল। প্রথমে এই ভবনের জন্য শুধু গ্রাউন্ড ফ্লোর এবং একটি অতিরিক্ত তলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই আরও তলা যোগ করে সেটিকে পাঁচতলা ভবনে রূপান্তরিত করা হয়।
শুধু তাই নয়, যেখানে মাত্র ৫টি ঘরের অনুমতি ছিল, সেখানে অবৈধভাবে ঘরের সংখ্যা বাড়িয়ে ২৫টি করা হয়। ফলে ভবনটি কার্যত একটি ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছিল।

সূত্রের খবর, প্রায় ৬ থেকে ৭ বছর আগে ভবনটি নির্মিত হয়। পরে হোটেল চালানোর জন্য ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন করা হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর অনুমোদিত নকশা চায়। কিন্তু হোটেল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে ব্যর্থ হয়। ফলে লাইসেন্স প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি, তবুও হোটেল চালু রাখা হয়।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, ভবনটির উচ্চতা প্রায় ১৫ মিটার হওয়ায় ফায়ার সেফটি নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক ছিল। এর জন্য ফায়ার এনওসি, বিল্ডিং অনুমোদনসহ একাধিক ছাড়পত্র প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তদন্তে উঠে এসেছে, ভবনে কোনও ফায়ার এনওসি ছিল না এবং জরুরি অবস্থায় বেরিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। পুরো ভবনে প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য ছিল মাত্র একটি পথ।
এই ভয়াবহ ঘটনার পর হোটেলের মালিক লভকেশ বাজাজ পলাতক বলে জানা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায়, যার মধ্যে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগও রয়েছে, মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তাঁকে গ্রেফতার করতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান চলছে।
দক্ষিণ দিল্লির এসডিএম জিতেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনায় মোট ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার অভিযান রাত ১২টা ১২ মিনিটে শেষ হয়। এই অভিযানে ৪৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে ২৬ জন বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, অবৈধ নির্মাণ ও নিরাপত্তা নিয়মের অবহেলা কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। প্রশ্ন উঠছে—এমন গাফিলতির দায় নেবে কে? আর কত প্রাণ গেলে প্রশাসন সত্যিই কঠোর হবে?















