পশ্চিম বর্ধমান: নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ঘিরে রাজনীতিতে চর্চা নতুন নয়, তবে এবার সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়েছে বলেই দাবি তুলল ভারতীয় জনতা পার্টি। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত এবং ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি মাসে ₹৩০০০ আর্থিক সহায়তা—এই দুই বড় প্রতিশ্রুতিই ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হওয়ার পরই ধীরে ধীরে তার সুফল পেতে শুরু করেছেন বহু মহিলা। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই প্রকল্পকে ঘিরে আগ্রহ এবং আলোচনা দুই-ই বেড়েছে।
জেলা শাসক দফতরে বিশেষ কর্মসূচি
বুধবার পশ্চিম বর্ধমান জেলা শাসক দফতরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে উৎসাহের পরিবেশ দেখা যায়। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলা শাসক এস. পন্নাম্বলম, আসানসোল উত্তর বিধানসভার বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি এবং ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পে আবেদনকারী বহু মহিলা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত মহিলাদের মধ্যে অনেকেই জানান, এই আর্থিক সহায়তা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে বড় সহায়ক হয়ে উঠছে। সংসারের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা এবং চিকিৎসার খাতে এই টাকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও মত প্রকাশ করেন তাঁরা।
বিধায়কের বক্তব্যে জোরালো দাবি
এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি বলেন, নির্বাচনের আগে বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা একে একে পূরণ করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন এবং মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তুলতে বড় ভূমিকা নিচ্ছে সরকার।
তিনি আরও জানান, বাকি প্রতিশ্রুতিগুলিও দ্রুত পূরণ করতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং আগামী দিনে আরও জনমুখী প্রকল্প আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা
এই দাবি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোরদার আলোচনা। বিরোধী পক্ষের তরফে প্রশ্ন তোলা হলেও, শাসক দলের পক্ষ থেকে এটিকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
ফলে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প এখন শুধুমাত্র একটি সরকারি উদ্যোগ নয়, বরং তা রাজ্যের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, এই প্রকল্প ভবিষ্যতে কতটা বিস্তৃত আকারে কার্যকর হয় এবং কতজন মহিলার জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে।















