কুলটি: কুলটি বিধানসভা এলাকার ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত কুরুড়ি গ্রামে চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে আসতেই গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ইসিএল (ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড) কোয়ার্টার থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি সামগ্রী উদ্ধার হওয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ত্রিপল, কম্বল, শিশুদের পুষ্টির জন্য নির্ধারিত খাদ্যসামগ্রী এবং আরও নানা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চরম চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ।
‘গরিবদের জন্য আসা সামগ্রী পৌঁছায়নি’—অভিযোগ স্থানীয়দের
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই সমস্ত সরকারি সাহায্য সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ ছিল। কিন্তু তা না করে দীর্ঘদিন ধরে কোয়ার্টারের ভিতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। বহু পরিবার, বিশেষ করে দরিদ্র ও শিশুদের জন্য নির্ধারিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ
ঘটনার পরেই ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা এলাকার কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁদের অভিযোগ, কাউন্সিলরের নির্দেশেই এই সামগ্রী কোয়ার্টারে মজুত রাখা হয়েছিল। মানুষের প্রাপ্য জিনিস জনগণের মধ্যে না দিয়ে কেন লুকিয়ে রাখা হল, তা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।
কাউন্সিলরের জবাব—‘সব অভিযোগ ভিত্তিহীন’
অন্যদিকে, অভিযুক্ত কাউন্সিলর সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, এগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই এবং রাজনৈতিক কারণে তাঁকে বদনাম করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তদন্তের দাবিতে জোরদার হচ্ছে চাপ
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক। সাধারণ মানুষ এখন প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন। তাঁদের প্রশ্ন—সরকারি সামগ্রী কোয়ার্টারে এল কীভাবে? এবং এতদিন তা গোপন রাখা হল কেন?
স্থানীয় সূত্রে খবর, দ্রুত তদন্ত না হলে বড় আকারের আন্দোলনের পথে হাঁটতে পারেন বাসিন্দারা।
এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এই ‘সরকারি সামগ্রী কাণ্ড’-এর রহস্য উদঘাটন করতে কতটা দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।















