আসানসোলের হাটন রোডে প্রস্তাবিত অতিক্রমণ উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আসানসোল পুরনিগম হঠাৎই এই অভিযান ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা করায় শুরু হয়েছে জোর আলোচনা এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর।
শুক্রবার সকালে মাইকিং করে পুরনিগম জানায়, স্থানীয় দোকানদারদের অনুরোধের ভিত্তিতে এই অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, শুক্রবারই অবৈধ নির্মাণ সরানোর শেষ দিন এবং শনিবার সকাল ১১টা থেকে জিটি রোডের হাটন রোড মোড় থেকে এসবি গড়াই রোডের ইসমাইল মোড় পর্যন্ত বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
গত দুই দিন ধরে লাগাতার মাইকিংয়ের ফলে এলাকায় চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। অনেক দোকানদার নিজেরাই দোকানের সামনে তৈরি করা টিন, শেড ও বাঁশের কাঠামো ভাঙতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে ১৫ দিনের সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণায় পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়।
এদিকে পুরনিগম স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই অতিরিক্ত সময়ের মধ্যেও যদি অতিক্রমণ না সরানো হয়, তাহলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং পূর্ণাঙ্গ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
🏙️ দীর্ঘদিনের সমস্যা, নতুন উদ্যোগ
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, হাটন রোডে দীর্ঘদিন ধরেই ফুটপাথ দখল এবং যানজটের অভিযোগ উঠছিল। সাধারণ মানুষকে প্রতিদিনই সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছিল। পুরনিগমের দাবি, রাস্তা অতিক্রমণমুক্ত করে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে অতীতেও একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযানের ঘোষণা হলেও তা সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হয়নি। ফলে এবারের ১৫ দিনের সময়সীমা নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে তৈরি হয়েছে সংশয় ও কৌতূহল।
🏛️ সরব বিজেপি, দিল হুঁশিয়ারি
অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিস্থিতিও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিজেপি আসানসোল জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে পুরনিগমের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি প্রশাসন অতিক্রমণ না সরায়, তাহলে বিজেপির কর্মীরাই সাধারণ মানুষের স্বার্থে রাস্তায় নেমে সেই কাজ সম্পন্ন করবেন।
👀 এখন নজর পরবর্তী পদক্ষেপে
বর্তমানে হাটন রোড ও সংলগ্ন এলাকায় জোর প্রস্তুতি চলছে। কেউ নিজেরাই অবৈধ অংশ সরাচ্ছেন, আবার কেউ অপেক্ষা করছেন প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য।
সব মিলিয়ে, আসানসোলের এই উচ্ছেদ অভিযান এখন শুধুমাত্র প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, বরং জনস্বার্থ, ব্যবসায়িক চাপ এবং রাজনৈতিক সংঘাত—এই তিনের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। আগামী ১৫ দিনেই স্পষ্ট হবে, বাস্তবে কতটা সফল হয় এই উদ্যোগ।















