আসানসোল: কথায় নয়, কাজে প্রমাণ—এটাই যেন দেখিয়ে দিলেন আসানসোল উত্তর বিধানসভার নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখার্জী। শপথ গ্রহণের পরদিনই তিনি সোজা পৌঁছে গেলেন বস্তিন বাজারের বহুদিন বন্ধ থাকা দুর্গামন্দিরে। সেখানে নিয়ম মেনে পুজো-অর্চনা করে ঘোষণা করলেন—এবার থেকে প্রতিদিন নিয়মিত পুজো হবে এই মন্দিরে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৪ বছর ধরে এই দুর্গামন্দিরে নিয়মিত পুজো বন্ধ ছিল এবং মন্দিরের দরজাও বন্ধ পড়ে ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সনাতনী সমাজ এই মন্দির পুনরায় খোলার দাবি জানিয়ে আসছিল। নির্বাচনের সময় কৃষ্ণেন্দু মুখার্জী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—বিধায়ক নির্বাচিত হলে তিনি নিজেই উদ্যোগ নিয়ে মন্দির খুলে পুজো চালু করবেন।
প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, শপথ নেওয়ার পরদিনই তিনি মন্দিরে উপস্থিত হন। পুরোহিতদের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিধি-বিধান মেনে পুজো করেন এবং দেবীর আশীর্বাদ নেন। এই সময় উপস্থিত ছিলেন বিপুল সংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা ও সনাতনী সমাজের সদস্যরা। মন্দিরের দরজা খুলতেই এলাকাজুড়ে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের ঢেউ নেমে আসে।
বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখার্জী জানান,
“এই মন্দিরে বহু বছর ধরে পুজো বন্ধ ছিল। আমি নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেটাই প্রথমে পূরণ করলাম। এখন থেকে এখানে প্রতিদিন নিয়মিত পুজো হবে।”
সমাজসেবী কৃষ্ণ প্রসাদ বলেন,
“প্রায় ১৫ বছর ধরে আমরা এই দিনের অপেক্ষায় ছিলাম। কৃষ্ণেন্দু মুখার্জী তাঁর কথা রেখেছেন, এতে আমরা অত্যন্ত খুশি।”
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা দিব্যাংশু আগরওয়ালও বলেন,
“ভোটের সময় তিনি যে কথা দিয়েছিলেন, আজ তা বাস্তবে রূপ পেল। মন্দির খোলায় এলাকার মানুষ ভীষণ আনন্দিত।”
এই ঘটনার পর শুধু বস্তিন বাজার নয়, গোটা আসানসোল এলাকায় একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। ধর্মীয় ঐতিহ্য ও মানুষের বিশ্বাসকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় অনেকেই বিধায়কের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
দীর্ঘ ১৪ বছরের অন্ধকার কাটিয়ে আবার আলোর মুখ দেখল দুর্গামন্দির—আর সেই সঙ্গে নতুন করে শুরু হল ভক্তি ও আস্থার এক নতুন অধ্যায়।















